চলছে বড় আয়োজনে বর্ষবরণের প্রস্তুতি

দুই বছর পর এবার বড় আয়োজনে চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। এবারের অনুষ্ঠান হবে রমনা বটমূলে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ছায়ানটের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বড় আয়োজনে অনুষ্ঠান করতে বটমূলের বরাদ্দ চেয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদনও করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর সাজানো হবে বটমূল।
ছায়ানটের একজন সদস্য জানান, করোনাকালে রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের কারণে গত দুই বছর বর্ষবরণের অনুষ্ঠান স্বল্প পরিসরে অনলাইনে তারা আয়োজন করেছেন। কিন্তু এবারের প্রস্তুতি ব্যাপক। এরই মধ্যে দলীয় পরিবেশনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তারা। বাকি প্রস্তুতি চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে।
এদিকে বাংলা নতুন বছর বরণে প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। আয়োজকরা জানান, এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে চারুকলা অনুষদের ২২ ও ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এবারের শোভাযাত্রায় সরাচিত্র ও মুখোশের পাশাপাশি নানা হস্তশিল্প নিয়ে হাজির হবেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ফাইম ইসলাম লিমন জানান, এবারের শোভাযাত্রায় সরাচিত্র ও মুখোশের পাশাপাশি নানা হস্তশিল্প নিয়ে তারা হাজির হবেন। থাকবে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর শোভাযাত্রার সব খরচ শিক্ষার্থীরাই বহন করে।
গতকাল চারুকলা অনুষদে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ছবি আঁকাআঁকির দৃশ্য। শোভাযাত্রার ব্যয় মেটাতে চারুশিক্ষার্থীরা টেবিলে ছড়িয়ে দিয়েছে রঙের কৌটা। বর্ষবরণের বিশেষ আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রাকে রঙিন ও বর্ণিল করতেই যত ব্যস্ততা। ফেস্টুন, মুখোশ ও নানা ধরনের নকশাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সংস্কৃতিপ্রেমীরা। কেউ আঁকছেন, কেউ গড়ছেন, কেউ বা সাহায্য করছেন। চলছে বিভিন্ন লোকজ পণ্য তৈরির কাজও।
শিক্ষার্থীরা জানান, বরাবরের মতো বাংলার লোকজ সংস্কৃতির সব অনুষঙ্গই যুক্ত হবে নববর্ষ উদযাপনের সবচেয়ে বেশি রঙ ছড়ানো এ আয়োজনে। জয়নুল গ্যালারির দক্ষিণ পাশে বাঁশের কঞ্চি ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বাঘ, বক, ঘোড়া, পাখি, পেঁচা, ছাগল ও নানা রঙের পুতুলের শিল্পকাঠামো। সবগুলোর স্ট্রাকচার তৈরি শেষে চলছে কাগজ পেঁচিয়ে রঙের আস্তরণের কাজ। জয়নুল শিশুকলা নিকেতনের বাইরের অংশের দেয়ালে শীতল পাটির পেইন্টিং করা হয়েছে। কাগজ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মাছ, ফুল ও পাখিসহ নানা শিল্পকর্ম।
-B










