বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকির মধ্যেও ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণ বাড়ছে
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণের চাহিদা বাড়ছে।
দুবাই এক্সপো ও বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টগুলো এ চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করছে। এ পরিস্থিতি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। মিডল ইস্ট অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকা বিজনেস এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন (মেবা)'র তথ্য অনুসারে, চলতি বছর ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণ আগের বছরের তুলনায় ২৫-২৭ শতাংশ বাড়বে।
বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রানীতি কঠোর করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। এ অবস্থায় ব্যয়ের ক্ষেত্রে লাগাম টানছেন ভোক্তারা। ধীর হয়ে পড়ছে প্রধান অর্থনীতিগুলো। সব মিলিয়ে আগামী বছর বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক। এমন পরিস্থিতিতেও ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণের উচ্চ চাহিদাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেবার নির্বাহী চেয়ারম্যান আলি আহমেদ আলনাকবি বলেন, ‘কভিডজনিত মহামারী উড়োজাহাজ পরিবহনের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। কভিডজনিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ফার্স্ট ও বিজনেস ক্লাসের ভ্রমণকারীরা ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণে স্থানান্তরিত হয়েছিল। বর্তমানে কভিডজনিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার পরও তারা এয়ারলাইনসগুলোয় ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে চার্টার্ড ফ্লাইটে ভ্রমণ করছেন।’
মধ্যপ্রাচ্যে দুবাই এক্সপো এবং দোহায় বিশ্বকাপ মাচের মতো মেগা ইভেন্ট এ খাতের বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। আলি আহমেদ আলনাকবি বলেন, ‘আমরা চার্টার্ড এভিয়েশনে একটি ভালো পর্যায়ের কার্যক্রম দেখতে শুরু করেছি। এ সময়ে ব্যক্তিগত জেটের চলাচল, জেটের আকার এবং সংখ্যা সবই ক্রমবর্ধমান রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণের বাজার বড় হচ্ছে।’
তবে খাতটির ক্রমবর্ধমান এ প্রবণতা টেকসই হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুবাই এক্সপো ও কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। তবে এ প্রবণতা ক্ষণস্থায়ী। আমরা এ খাতে টেকসই বৃদ্ধি নিশ্চিতে কাজ করছি।’
এদিকে বিজনেস এভিয়েশন খাতটি সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা এবং শ্রম ঘাটতির কারণে উড়োজাহাজ সরবরাহে বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছে। এতে পুরনো এয়ারক্রাফটের বাজার চাঙ্গা হচ্ছে।
আলি আহমেদ আলনাকবি বলেন, ‘বৈশ্বিক নানামুখী প্রভাবের কারণে নতুন ব্যক্তিগত জেটের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে পুরনো উড়োজাহাজের বাজারে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো বাজারটি স্থিতিশীল বলা যায়।’
অন্যদিকে ব্যক্তিগত জেট নিয়ে পরিবেশবিদরা বরাবরের মতো সতর্ক করে আসছেন। চার্টার্ড ভ্রমণের কারণে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ এ জেটগুলোয় যাত্রীপ্রতি কার্বন নিঃসরণের হার এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটের চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যে এভিয়েশন শিল্পে নিট জিরো কার্বন নিঃসরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এক্ষেত্রে টেকসই এভিয়েশন ফুয়েলকে (এসএফ) কার্বন নিঃসরণ কমাতে স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান এসএফের ব্যবহার পরীক্ষা করে দেখছে। মেবার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত বর্তমানে মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৪ শতাংশের জন্য দায়ী। এর মধ্যে ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণের অবদান ১ শতাংশের নিচে। তার পরও আমাদের এ খাতের অনেক সমালোচনা রয়েছে।
বিষয়টি এমন যে আপনি অর্থনীতিতে যতই অবদান রাখুন না কেন সমালোচনার মুখোমুখি হবেন। যদিও আমরা এটি সাদরে গ্রহণ করছি। আমাদের এ ধরনের সমালোচনা গ্রহণ করতে হবে এবং ব্যবসা চালিয়ে যেতে হবে। ব্যবসায়িক ভ্রমণ কিংবা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দ্রুততম উপায়ে দেখা করতে ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণ অত্যাবশ্যকীয়। এজন্য আমরা কার্যক্রম বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি।
-B










