শাহ আমানতে পণ্য খালাসে এনবিআরের দ্বারস্থ রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

ঢাকা: চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের প্রায় ২৫ টন পণ্য আটকে আছে গত ৫ মাস ধরে। পণ্যগুলো ইতিমধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে। ফলে প্রবাসীরা তাদের পণ্য খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বারস্থ হয়েছেন। সম্প্রতি তারা এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো আবেদনে পণ্য খালাসের অনুমতি ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
প্রবাসীদের দাবি, তারা ৩ থেকে ৫ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এ দীর্ঘ সময়ে তারা পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে জমিয়ে রাখেন। দেশে ফেরার সময় পরিবারের জন্য ওইসব পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসার জন্য। তবে দিন দিন প্রবাসীদের কোণঠাসা করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসীদের আনা পারিবারিক ব্যবহারের কার্গো পণ্য ও কার্গো ফ্লাইট চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার চক্রান্তের অংশ হিসেবে সিপি দাখিলের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীরা জানান, গত মে মাসে প্রবাসীদের পাঠানো চট্টগ্রাম কাস্টমসের এয়ারপোর্ট ও এয়ারফ্রেইট ইউনিটের ডেপুটি কমিশনার মো. আহসান উল্লাহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রবাসীদের পণ্য খালাসে অনাপত্তিপত্র দাখিলের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ৩০ দিনের মধ্যে অনাপত্তিপত্র দাখিল করতে না পারলে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ওই পণ্য নিলামে চলে যাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া কাস্টমস কমিশনারের মৌখিক নির্দেশের কড়াকড়িতে পণ্যগুলো ছাড় পাচ্ছে না বলে অভিযোগ প্রবাসীদের।
একজন প্রবাসী বলেন, গত রমজান এবং ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠালেও সেগুলো খালাস নিতে পারিনি। কাস্টমসের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া মেলেনি।
এদিকে প্রবাসীদের পণ্য খালাসে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্টরা জানান, প্রবাসীদের পণ্য খালাস নিতে না পারায় প্রতিদিন বাড়ছে বিমানবন্দরের ওয়্যারহাউস চার্জ। এমনকি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে প্রবাসীদের আনা পণ্য।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন বিমানবন্দরের সক্ষমতা নিরূপণ করে প্রতিবেদন দেয়। বিমানবন্দরের সক্ষমতার বড় একটি অংশ কার্গো পরিবহন, কার্গো ওয়্যারহাউসের সক্ষমতা। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কার্গো খালাস বন্ধ থাকায় অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পণ্যবাহী কার্গো উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাংলাদেশ বিমান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের আয় কমেছে। এর সঙ্গে বড় ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি হওয়া ফলমূল ও সবজি রফতানিতে। কার্গো ফ্লাইট না থাকায় রফতানি হচ্ছে না চট্টগ্রাম থেকে ফলমূল ও সবজি। এতে রফতানি বাজার দখল করে নিচ্ছে ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশগুলো।
-B










