প্রবল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন প্রতি বছর বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লা-আবর্জনায় সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।
গত ১০ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশের ৬২ জন স্বেচ্ছাসেবক অপসারণ করেন ৬৬৩৪ কেজি ।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, তারা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সেন্টমার্টিনের প্রতিটি অলিগলি ও সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও পলেথিনসহ নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করেন।
জানা যায়, কেওক্রাডং বাংলাদেশ ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে সেন্টমার্টিন দ্বীপে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওশান কনজারভেন্সির বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোকাকোলা বাংলাদেশের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে।
কেওক্রাডংয়ের স্বেচ্ছাসেবীরা এসব প্লাস্টিক বর্জ্য ২০৫টি বস্তায় ভর্তি করে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে নিয়ে আসেন। এর পর ইউনিলিভার বাংলাদেশের চট্টগ্রামের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তায়নকারী সংস্থা ইপসা- এ বর্জ্যগুলো কেওক্রাডং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বুঝে নেন।
বর্জ্যগুলো সেখান থেকে ট্রাকযোগে চট্টগ্রামে নিয়ে যান। সেখানে বর্জ্যগুলোকে প্লাস্টিকের প্রকারভেদে আলাদা করে চট্টগ্রামে অবস্থিত রিসাইক্লারদের কাছে হস্তান্তর করেন।
কেওক্রাডং বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মুনতাসির মামুন বলেন, সামুদ্রিক আর্বজনা বা মেরিন ডেবরিজ বর্তমান দুনিয়াতে বহুল আলোচিত। এর মূল কারণ হিসেবে মেরিন ডেবরি থেকে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা যে কোনো ধরনের প্লাস্টিকের কণা সামুদ্রিক পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তাতে আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি, মানবদেহে, রক্তে, মলে এমনকি মাতৃদুধেও প্লস্টিকের অস্বিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এর ভয়াবহতার পরিমাপ আমাদের এখনো পুঙ্খানুপঙ্খভাবে করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ভৌগলিক কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের অন্তিম গন্তব্য যে কোনো জলাধারে হয়ে থাকে। আর সেন্ট মার্টিনের মতো ছোট দ্বীপে পড়ে থাকা প্লাস্টিক যদি মূল ভূখন্ডে নিয়ে আসা না হয় তবে এর পরিণাম শুধু এ দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ছড়িয়ে পড়বে বা পরে বঙ্গোপসাগরে। আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেই পরিণামকে যতটা সম্ভব সীমিত করা।
সেন্টমার্টিনের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, সেন্টমার্টিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার এ উদ্যোগটি খুবই প্রশংসনীয়। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব হবে। আগামীতে সেন্টমার্টিনে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করলে দ্বীপের পরিবেশের জন্য উপকার বয়ে আনবে।
-B










