উড়োজাহাজ সংস্থার ভবিষ্যৎ দায় কমাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভরতা এভিয়েশন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকো রাখতে পারে। এ খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত হয় আইএটিএর বার্ষিক সাধারণ সভা। এতে কার্বন নিঃসরণের দায় কীভাবে কমানো যায় তা ছিল তাদের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
দেড় হাজার প্রতিনিধি উপস্থিতির সভাটিতে সহ-আয়োজক ছিলেন আইএটিএর ডিরেক্টর জেনারেল উইলি ওয়ালশ, কেএলএমের প্রধান, টার্কিশ এয়ারলাইনসের প্রধান মেহমেত তেভফিক নানে। সহ-আয়োজক মেহমেত তেভফিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের বলেন, ‘আমাদের বিশ্বকে যত্ন নিতে ও সুস্থ করে তুলতে হবে।’
উড়োজাহাজ শিল্পে জলবায়ু সম্পর্কে বৃহত্তর সমাজের বিচ্ছিন্নতা, আশা ও শঙ্কার মিশ্রণ স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান। উড়োজাহাজ শিল্পের প্রধানরা অতিমাত্রায় বেড়ে ওঠা গ্রিনহাউজ গ্যাস ও ডিকার্বোনাইজ করার সহজ বিকল্পের অভাব সম্পর্কে ভালোভাবেই সচেতন। অথচ এর মধ্যে কভিড-১৯-এর পর ভ্রমণের ব্যাপক চাহিদার ফলে বেড়ে চলেছে যাত্রী পরিবহন। উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোও সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। চীন তুলে নিয়েছে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্প্রসারণ হচ্ছে ভারতের এভিয়েশন খাত।
সমাধান হিসেবে উড্ডয়ন কমিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রশমনের ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ সীমিত। ইতিবাচকভাবে দেখলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোর হাইড্রোজেন বা বৈদ্যুতিক শক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতের জন্য আশা।
বেশির ভাগ এয়ারলাইনস পুরনো উড়োজাহাজগুলোকে প্রতিস্থাপন করে কম কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনকারী আধুনিক জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারের পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু অধিক পরিমাণ যাত্রী ভ্রমণ করায় এতে পরিবেশের চেয়ে এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলোই বেশি লাভবান হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে জাদুকরী সমাধান হবে টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ), যা সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে পারে কার্বন নিঃসরণ কমাতে।
২০৩০ সাল নাগাদ এয়ারলাইনসগুলোর এ জ্বালানির চাহিদা দাঁড়াবে বছরে ৩০০ কোটি লিটার, যা বর্তমান সরবরাহের ১০০ গুণ। সিন্থেটিক জ্বালানি বা ই-জ্বালানি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি হিসেবে পরিচিত। আরেকটি অপশন হচ্ছে, ফিডস্টক কিংবা প্রাণিজ চর্বি। কিন্তু আটলান্টিক পাড়ি দিতে একটি উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয় জ্বালানির জন্য লাগতে পারে ৮ হাজার ৮০০ শূকরের চর্বি।
প্রয়োজনীয় ফিডস্টকের উপযোগিতা একটি বিরাট বাধা হয়ে দেখা দেয়; তা শূকর, রান্নার তেল, গাছপালা বা বর্জ্য-যাই হোক না কেন।
কার্বন নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ ধরার পরও অধিক পরিমাণে কৃষি বা পশুর চর্বি, প্লাস্টিক তৈরির মতো প্রক্রিয়াগুলো থেকে পাওয়া বর্জ্য ব্যবহারের ধারণা মৌলিকভাবে টেকসই নয় বলে মনে করেন এভিয়েশন এনভায়রনমেন্ট ফেডারেশনের নীতি পরিচালক ক্যাটলিন হিউইট।
ওয়ালশ বলেছিলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এয়ারলাইনসগুলোর স্থির ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ছিল। এমিরেটস সম্প্রতি তাদের নিজস্ব ২০ কোটি ডলারের গবেষণা তহবিল ঘোষণা করেছে। বর্তমানে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করে উড়োজাহাজ শিল্প উদ্দিষ্ট সময়ে নিট শূন্য লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে না বলে মত দেন এমিরেটস এয়ারলাইনসের প্রেসিডেন্ট টিম ক্লার্ক।
-B










