বোয়িং-এয়ারবাসকে টেক্কা দিতে আসছে রাশিয়া-চীন

বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা হিসেবে বিশ্বে একচেটিয়া বাজার বোয়িং এবং এয়ারবাসের। এবার রাশিয়া এবং চীন নতুন উড়োজাহাজ বাজারে নামাচ্ছে।
গত বহু দশক ধরে উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক সংস্থা হিসেবে গোটা বিশ্বে কার্যত একচেটিয়া বাজার ছিল বোয়িং এবং এয়ারবাসের। পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশে তাদের তৈরি উড়োজাহাজই ব্যবহার হয়। এবার তাদের সেই বাজারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে প্রস্তুত রাশিয়া এবং চীন। এবছরের শেষেই বাজারে নতুন উড়োজাহাজ নামাতে চলেছে রাশিয়া। যার নাম এমসি ২১।
অন্যদিকে, চীনও তাদের নতুন উড়োজাহাজ তৈরি করে ফেলেছে। তাদের উড়োজাহাজও এবছরের শেষেই বাজারে আসার কথা ছিল। তবে লকডাউন-সহ একাধিক জটিলতার জন্য নতুন উড়োজাহাজ বাজারে নামাতে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে চীনের সূত্র জানিয়েছে। চীন যে নতুন মডেলের উড়োজাহাজটি বানিয়েছে, তার নাম কোম্যাক সি ৯১৯।
১৯৬৭ সাল থেকে উড়োজাহাজের বাজারে একাধিপত্য চালাচ্ছে বোয়িং। ১৯৮৭ সালে বাজারে আসে এয়ারবাস। এই দুই সংস্থাই গত কয়েক দশক কার্যত উড়োজাহাজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন অবশ্য এক সময় এই দুই সংস্থার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। এখনো রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সাবেক উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক সংস্থা আছে। কিন্তু গোটা বছরে তারা ১৪টি উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারে। যেখানে সব ঠিক থাকলে বোয়িং বা এয়ারবাস দিনে ওই পরিমাণ উড়োজাহাজ তৈরি করে।
উড়োজাহাজ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এবার সেই ইতিহাস বদলাতে শুরু হচ্ছে। রাশিয়ার নতুন উড়োজাহাজ বোয়িং এবং এয়ারবাসকে সমানে সমানে টেক্কা দেবে। আগামী গরমেই উড়োজাহাজটির চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই যাত্রী পরিবহণের সার্টিফিকেট তারা পেয়ে গেছে। দুইটি ক্লাস মিলিয়ে উড়োজাহাজটিতে মোট ১৬৭ জন যাত্রী বসতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, উড়োজাহাজটি পরীক্ষামূলক উড়ানে সফল হলে বোয়িং এবং এয়ারবাসকে সব দিক থেকেই চ্যালেঞ্জ জানাবে এটি। নতুন এই উড়োজাহাজের ফিচার অনেক বেশি। দামও প্রতিযোগিতামূলক। চীনেরউড়োজাহাজটি নিয়ে অবশ্য এখনো সমস্ত তথ্য বাইরে আসেনি। তবে ওইউড়োজাহাজটিও প্রতিযোগিতায় সকলকে চ্যালেঞ্জ জানাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
-B










