করোনা-পরবর্তী রেকর্ড মুনাফা রায়ানএয়ারের
গ্রীষ্মকালীন মুনাফা ও নতুন অর্থবছর নিয়ে আশাবাদী রায়ানএয়ার। জ্বালানির দাম বেশি থাকলেও বেড়েছে আকাশপথে চলাচলের মাত্রা। ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবছরে ১৪৩ কোটি ইউরো বা ১৫৭ কোটি ডলার মুনাফা করেছে রায়ানএয়ার। অর্থনীতি বিশ্লেষক কিংবা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্কলন থেকেও যা বেশি।
যাত্রী পরিবহনের দিক দিয়ে ইউরোপের বৃহত্তম উড়োজাহাজ সংস্থাটির ভাষ্যানুযায়ী, গ্রীষ্মকালে মহামারীপূর্ব উড়োজাহাজ চলাচলের তুলনায় ৫-১০ শতাংশ কম থাকবে। নতুন মৌসুমে ১০ শতাংশ যাত্রী বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও তেলের বিল ১০০ কোটি ইউরো বা ১১০ কোটি ডলার বেড়েছে সম্প্রতি বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে।
প্রধান নির্বাহী মাইকেল ওলেরি বিনিয়োগকারীদের সামনে দেয়া বিবৃতিতে বলেছেন, যারা মহামারীর কারণে দুই বছর গৃহবন্দি অবস্থায় পার করেছেন, তারা ফের ভ্রমণে মনোনিবেশ করেছেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ভ্রমণ তাদের জন্য বিলাস না, প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পরিবারকে নিয়ে ফিরছে ইউরোপের সমুদ্রসৈকতে। অন্যান্য ইউরোপীয় বিমান চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে আকাশপথে ভ্রমণে আগ্রহী যাত্রী বাড়ার কথা। ইজিজেটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আয় সংকোচন ও মূল্যস্ফীতির পরেও বেড়েছে আকাশপথে চলাচলের আগ্রহ।
রায়ানএয়ারের শেয়ার ২৭ শতাংশ বেড়েছে চলতি বছরে। তবে ওলেরি সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা বসন্তকাল পর্যন্ত চলতে থাকবে কিনা, তা নিশ্চিত না। ২০২৪ সালের প্রথম দিকটা বরং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। রায়ানএয়ার আরো ১১০টি নতুন বোয়িং জেট করবে তিন গ্রীষ্মের মধ্যে। বোয়িং সরবরাহ করা হলে প্রত্যাশিত মুনাফা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের জুন-জুলাই পর্যন্ত ১০টি নতুন জেট যুক্ত হবে রায়ানএয়ারে। ফলে বাড়বে মুনাফার সূচক। প্রতিষ্ঠানটির অর্থনীতি প্রধান নিল সোরাহান বলেছেন, চলতি মৌসুমে যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা ১৬ কোটি ৮৬ লাখ থেকে ১৮ কোটি ৫০ লাখে উন্নীত হতে যাচ্ছে। তবে বোয়িংয়ের জেট সরবরাহ দেরি হলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে যাত্রী কমতে পারে ৭ লাখ ৫০ হাজার জন।
ওলেরি প্রত্যাশা করেছেন, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মের জন্য প্রয়োজনীয় সব উড়োজাহাজ আগামী মে মাসের মধ্যেই হাজির হবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩০০ জেট কেনার ব্যাপারে চুক্তিতে পৌঁছায় রায়ানএয়ার। চুক্তি অনুসারে ২০৩৪ সালের আগে সরবরাহ করা হবে জেটগুলো। তাতে প্রতি বছরে আরো অন্তত ৩০ কোটি যাত্রী বেশি পরিবহন করতে সক্ষম হবে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মৌসুমে মহামারীর আঘাতে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ইউরো ঘাটতি হয়েছিল রায়ানএয়ারের। কিন্তু বর্তমান আয় অতিক্রম করে গেছে সে সূচক। প্রায় স্পর্শ করেছে ২০১৮ সালের মার্চের রেকর্ড।
-B










