শিগগিরই ইরানে বিনিয়োগ ও উড়োজাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি সৌদির

সম্প্রতি চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানে মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। এর অধীনে দেশ দুইটি আগামী ২ মাসের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সম্মত হয়। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। এবার সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী জানালেন, শিগগিরই ইরানে বিনিয়োগ করতে পারে তার দেশ। তা ছাড়া দুই দেশের মধ্যে উড়োজাহাজ চলাচল অবার শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
সৌদির অর্থমন্ত্রী মুহাম্মাদ আল-জ্যাদান বলেন, ইরানে বিনিয়োগ করার জন্য ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সৌদির। এ ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ কোনো বাধা হতে পারে না বলেও জানান তিনি। আল-জ্যাদান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দেশের জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। ইরানে সৌদি আরবে সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবও দেশটিকে সুবিধা দেবে।
প্রায় ৭ বছর বন্ধ থাকার পর কয়েকদিন আগে আবারো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছে সৌদি আরব ও ইরান। চীনের মধ্যস্থতায় কয়েকদিনের আলোচনার পর অবশেষে দূতাবাস ফের চালু করতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমপ্রধান ও তেলসমৃদ্ধ দুই দেশের এই পুনর্মিলন বিশ্বব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে তা বলাই বাহুল্য।
সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ঘোষণাটি আশ্চর্যজনক হলেও প্রত্যাশিত ছিল। কারণ দু’টি দেশ প্রায় দু’বছর ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ হয়েছে। অন্য দিকে বিশ্বরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনের অবস্থান আগের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। ওয়াশিংটনকে টপকে বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে অভানীয় প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দেখিয়েছে।
আবার উড়োজাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি
এ দিকে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ আরো জানায়, ইরানের সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (সিএও) বলেছে, সরকারি অনুমোদন জারি করার পর ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে উড়োজাহাজ চলাচল আবার চালু হবে।
সিএওর মুখপাত্র জাফর ইয়ারলু মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) এই ঘোষণা দিয়েছেন এবং বলেছেন, ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পুনরায় চালু করা কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল। ইয়ারলু বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরে এই ফ্লাইটের জন্য প্রয়োজনীয় এবং অফিসিয়াল পারমিট জারি করা হবে এবং দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।’ তাসনিমের খবর অনুযায়ী সাম্প্রতিক ইরান-সৌদি চুক্তির একটি বিষয় ছিল পবিত্র ইরানি শহর মাশহাদে যাত্রার জন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা।
চীন, ইরান এবং সৌদি আরব আয়োজিত এক বৈঠকে বেশ কয়েকদিনের নিবিড় আলোচনার পর অবশেষে শুক্রবার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং দুই মাসের মধ্যে দূতাবাস ও মিশন পুনরায় চালু করার জন্য একটি চুক্তি হরেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে- ইরান ও সৌদি আরব একে অপরের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ইরান, সৌদি আরব এবং চীন আঞ্চলিকও আর্ন্তজাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছে।
সৌদি সরকার কর্তৃক বিশিষ্ট শিয়া আলেম শেখ নিমর বাকির আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় ক্ষুব্ধ ইরানি বিক্ষোভকারীরা তেহরানের দূতাবাসে হামলা চালায়। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। শান্তি আলোচনার জন্য দুই পক্ষ রাজধানী বাগদাদে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে পাঁচ দফা আলোচনা করেছে।
-B










