১০ দিনের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন হিথরোর নিরাপত্তাকর্মীরা

ইস্টারের ছুটিকে ঘিরে ১০ দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা।
চাকরির নিরাপত্তা, বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে সম্প্রতি এ কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনরত কর্মীদের শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনাইটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হিথরো বিমানবন্দরে কর্মরত ১ হাজার ৪০০ নিরাপত্তারক্ষী ৩১ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করবেন। এ ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ফাইভের নিরাপত্তারক্ষীরাও। টার্মিনালটি ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ। এছাড়া সব ধরনের কার্গো উড়োজাহাজ ও মালামাল চেক হয় এ টার্মিনালে।
ব্রিটেনে ছুটির মৌসুম হিসেবে ইস্টার বেশ জনপ্রিয় এবং সময়টা হিথরোর অন্যতম ব্যস্ততম মৌসুম। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রিটিশ নাগরিক এ সময়ে ছুটি কাটাতে আত্মীয়-স্বজনের কাছে যেতে কিংবা পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে বেরোনোর পরিকল্পনা করছে। এমন ব্যস্ত মৌসুম সামনে রেখে নিরাপত্তারক্ষীদের ধর্মঘট হিথরো কর্তৃপক্ষের জন্য বিব্রতকর হিসেবে দেখা দিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং চার দশকের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতিতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকরা। হিথরো কর্তৃপক্ষ ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় তা যথেষ্ট নয়।
ইউনাইটের মহাসচিব শ্যারন গ্রাহাম বলেন, ‘হিথরোর শ্রমিকরা যখন দারিদ্র্যসীমায়, তখন সিইও ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা উচ্চ বেতন নিচ্ছেন।’
গত অক্টোবরে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ১ শতাংশের রেকর্ড গড়ে। জানুয়ারিতে তা ১০ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এলেও তা এখনো চার দশকের সর্বোচ্চ। এ পরিস্থিতিতে জীবনযাপন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কয়েক মাসে বিভিন্ন শ্রমজীবী, পেশাজীবী মানুষ বেতনভাতা ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে বিক্ষোভ-ধর্মঘট ডেকেছে।
নিরাপত্তা কর্মীদের ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে হিথরো কর্তৃপক্ষ বলছে, ছুটির মৌসুমে বিমানবন্দর সচল রাখার জন্য তারা বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছেন।
-B










