এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ধূমপান - অভব্য আচরণ যাত্রীর

আবারও এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীর অভব্য আচরণের ঘটনা ঘটল। এবার ঘটনাটি ঘটেছে লন্ডন থেকে মুম্বইগামী বিমানে।
জানা গেছে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক উড়োজাহাজের বাথরুমেই ধূমপান করেন। শুধু তাই নয়, উড়োজাহাজে নিজের সহযাত্রীদের সঙ্গেও অভব্য আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে ৩৭ বছর বয়সি যাত্রী রমাকান্ত''র বিরুদ্ধে। এই আবহে অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৩৬ নং ধারা (কারও জীবন বা ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে বিপন্ন করার মতো আচরণ বা অবহেলা করে কোনও কাজ) এবং উড়োজাহাজ আইন ১৯৩৭-এর ২২ নং ধারা (পাইলট-ইন-কমান্ডের নির্দেশ মেনে চলতে অস্বীকার করা), ২৩ নং ধারা (সহযাত্রীর নিরাপত্তাকে বিপন্ন করা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ করা) এবং ২৫ নং ধারা (উড়োজাহাজে ধূমপান)-এর অধীনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রু সদস্যদের তরফে মুম্বই পুলিশকে বলা হয়েছে, 'উড়োজাহাজে ধূমপানের অনুমতি নেই তবে অভিযুক্ত যাত্রী বাথরুমে যাওয়ার সাথে সাথে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করে এবং যখন আমরা সবাই বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়ে দেখি তার হাতে একটি সিগারেট ছিল। আমরা সাথে সাথে তার হাত থেকে সিগারেটটা ছিনিয়ে তা ছুড়ে ফেলে দিই। তারপর সেই যাত্রী আমাদের সমস্ত ক্রু সদস্যদের উদ্দেশে চিৎকার করতে লাগেন। কোনরকমে আমরা তাকে তার আসনে নিয়ে গেলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি উড়োজাহাজের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তার আচরণে সকল যাত্রী ভয় পেয়ে যান। তিনি গোটা উড়োজাহাজে ছটফট করতে থাকেন। তিনি আমাদের কথা শুনছিলেন না এবং চিৎকার করছিলেন। তারপর আমরা তার হাত-পা বেঁধে তাকে সিটে বসিয়ে রেখেছিলাম।'
উড়োজাহাজ কর্মীরা জানান, অভিযুক্ত যাত্রী বারবার নিজের মাথায় বাড়ি মারতে থাকেন। যাত্রীদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি এসে সেই যাত্রীকে পরীক্ষা করেন। অভিযুক্ত যাত্রী দাবি করেন, তার ব্যাগে ওষুধ রয়েছে। তবে উড়োজাহাজ কর্মীরা কোনও ওষুধ খুঁজে পাননি। পরে উড়োজাহাজটি মুম্বইতে অবতরণ করলে রমাকান্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিকে অভিযুক্ত যাত্রীর রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই যাত্রী মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন নাকি নেশাগ্রস্ত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতেই এই পরীক্ষা করা হচ্ছে।
-B










