অস্তিত্ব সংকটে পর্যটন স্থান সোনাদিয়া দ্বীপ
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে সোনাদিয়া দ্বীপের অবস্থান। এটি জীববৈচিত্র্যের দ্বীপ নামেও পরিচিতি। চারদিকে সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় এটি অন্যতম পর্যটন স্থান। অথচ জীববৈচিত্র্যের এই দ্বীপ বর্জ্যে ভরা। বর্জ্যের চাপে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দ্বীপটি।
৬ ও ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বোরি) মহাপরিচালক ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দারের নেতৃত্বে একদল পরিবেশ বিজ্ঞানী সোনাদিয়া দ্বীপ পরিদর্শনে যান। তখন দ্বীপজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ চোখে পড়ে প্রতিনিধি দলের।
সমুদ্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, সোনাদিয়া দ্বীপের পূর্ব থেকে পশ্চিম সাত কিলোমিটার সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নানা ধরনের বর্জ্য। এর মধ্যে মদের খালি বোতল, ভাঙা বোতল, স্যান্ডেল, ব্যাগ, জাল ও মেডিক্যালসহ জৈব-অজৈব নানা ধরনের বর্জ্য সৈকতে স্তূপ হয়ে আছে। জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপে নানা ধরনের বর্জ্য ভেসে এলেও গত ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে কয়েক টন প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বীপে এসে জড়ো হয়। এসব বর্জ্য দ্বীপের জীববৈচিত্র্য গিলে খাচ্ছে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, এ ধরনের বর্জ্যের কারণে মাটিতে বিষাক্ততা তৈরি হচ্ছে। মাটির বন্ধন তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সৈকতে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণীর বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়া সৈকতের প্রাকৃতিক উদ্ভিদের জৈব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও তৈরি হতে পারছে না।
সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, ‘মাটিতে প্লাস্টিক মিশে যাওয়ার কারণে সোনাদিয়া দ্বীপে ভয়াবহ মাটি দূষণের ঘটনা ঘটতে পারে। এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে পানিতেও। আবার দ্বীপে ভেসে আসা প্লাস্টিকগুলো মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে ফের সাগরে মিশে যেতে পারে। এ ধরনের মাটি ও পানি দূষণের কারণে কোনও কোনও প্রাণী এবং উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। আমরা দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কম্পিউটার তৈরির কারখানাটি মাটি দূষণের কারণে বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
প্রায় তিন যুগের ব্যবধানে সোনাদিয়ার জীববৈচিত্র্য ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে করেন বেলাল হায়দার। বিভিন্ন প্রাণীর ইকোসিস্টেম (বাস্তুতন্ত্র) ধ্বংস করার কারণে সোনাদিয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তার ধারণা। তবে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে এখনও সোনাদিয়াকে রক্ষা করা এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও মনে করেন এই সমুদ্রবিজ্ঞানী।
-B










