কভিড পরবর্তী পুনরুদ্ধারের পথে শ্রীলংকার পর্যটন
২০১৯ সালের এপ্রিলে ইস্টার সানডের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা শ্রীলংকার পর্যটন খাতে প্রথম আঘাত হানে। ওই ঘটনায় হোটেল ও গির্জায় অবস্থান নেয়া আড়াই শতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ফলে হোটেলগুলোর বুকিং বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে। খাতটিতে পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় আরেকটি ধ্বংসাত্মক ধাক্কা দেয় কভিড-১৯ মহামারী। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সম্প্রতি আলোর মুখ দেখছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রটি।
শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তথ্যানুযায়ী, কভিডের পর প্রথমবারের মতো চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে পর্যটন খাত থেকে দেশটির আয় হয়েছে ৫২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ সময়ে পর্যটক আগমনের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৯-এ পৌঁছেছে। এছাড়া এপ্রিলে আরো ১ লাখ ৫ হাজার ৪৯৮ পর্যটক দেশটিতে এসেছিল। যেখানে গত বছর সব মিলিয়ে পর্যটক এসেছিল ৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৭৮ জন।
শ্রীলংকা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে চলতি বছরের জন্য ১৫ লাখ পর্যটক আগমনের প্রাক্কলন করেছিল। কিন্তু প্রথম প্রান্তিকের চিত্রে তারা ক্রমবর্ধমান আশাবাদী হয়ে উঠছে। দেশটির পর্যটনমন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো বলেন, ‘দেশের পর্যটক আগমনের সংখ্যা ২০ লাখের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
প্রতিবেদন বলছে, মার্চের শেষ দিকে ফোর্বস ম্যাগাজিন শ্রীলংকাকে এ বছর ভ্রমণের জন্য শীর্ষ ২৩ গন্তব্যের একটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। কয়েক বছর ধরেই শ্রীলংকা বিশ্বভ্রমণকারীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। হলিডে হোম ‘সোয়াম্প কটেজ’-এর মালিক লুইস বোয়ার বলেন, ‘একদিনের মধ্যে হাইকিং, সাঁতার কাটার সুবিধা, সার্ফ ও সাফারির অভিজ্ঞতা আপনি আর কোথায় পাবেন?’ তবে পর্যটন আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও শিল্প সংশ্লিষ্টরা সতর্ক বার্তা দিয়ে রাখছেন। তারা বলছেন, পরিসংখ্যান তথ্যের উন্নতি সত্ত্বেও বাস্তবিক ক্ষেত্রে টেকসই পুনরুদ্ধার এখনো বহুদূরে।
গত বছর শ্রীলংকা ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে সরকারের পতন ঘটেছে। সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়। এর পরে আইএমএফের শর্তানুযায়ী কলম্বো বাধ্য হয়ে কঠোর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। এতে দেশটির ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও জনসাধারণ এখনো বড় ধরনের আর্থিক মন্দার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
কালচারাল ট্রায়াঙ্গাল হোটেলার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি সালিয়া দয়ানন্দ জানান, প্রায় সবকিছুর দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এমনকি পেইন্ট ও বাল্বের মতো সাধারণ জিনিসপত্রের দামও সহ্যসীমার বাইরে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, গত বছরের তুলনায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু উপার্জন কম। কেননা এখন যারা আসে তারা খুব বেশি খরচ করেন না। এজন্য সংখ্যা তুলনামূলক বাড়লেও আয় এখনো কম। শুধু বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে ৬০ শতাংশ। বেসিক হার্ডওয়্যারের দামের দিক বিবেচনা করলে যদি অতীতে কিছু কিনতে খরচ লাগত ১ লাখ রুপি, এখন সেটির জন্য দরকার হয় ৪ লাখ রুপি।’
সালিয়া দয়ানন্দের মতে, হোটেলের বুকিংয়ের পরিমাণ এখনো ইস্টার সানডে হামলার আগের সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। ২০১৮ সালের ৬০-৭০ শতাংশের তুলনায় এখন ৩০-৩৫ শতাংশের কাছাকাছি। ওই সময়ে ভ্রমণ খাতে ২৩ লাখের অধিক পর্যটকদের কাছ থেকে ৪৪০ কোটি ডলার আয় করেছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম প্রান্তিকের পরিস্থিতি খাতটিকে আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করতে উচ্চতর বাধা-বিঘ্নের মধ্য দিয়ে অনেক দূর যেতে হবে।
-B










