হরতাল-অবরোধ : কুয়াকাটায় পর্যটন ব্যবসায় ধস

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। টানা অবরোধের কারণে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছেন কুয়াকাটার পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বছরের এই সময়ে প্রচুর পর্যটক থাকলেও ছুটির দিনেও ফাঁকা থাকছে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বেলাভূমিখ্যাত এই সমুদ্রসৈকত। হোটেল-রিসোর্ট পর্যটকশূন্য বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা অবরোধের কারণে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই ধাক্কা খাচ্ছেন তারা। বছরের এই সময়ে কুয়াকাটায় ভিড় করেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। কিন্তু অবরোধের কারণে সব বুকিং বাতিল করেছেন তারা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসার পথে গণপরিবহন না পাওয়া ও রাস্তাঘাটে সংঘাত, সংঘর্ষের কথা চিন্তা করে বের হচ্ছেন না ভ্রমণপিপাসুরা। ফলে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সাগরকন্যা। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অবরোধের মতো কর্মসূচি না দেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে কোনও পর্যটক নেই। তবে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সব আয়োজন করে রেখেছেন। তারা আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।
হোটেল-রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্ট ফাঁকা। রেস্টুরেন্টগুলোতে স্থানীয় লোকজন বসে আছেন। কোনও পর্যটক নেই বললেই চলে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটন মৌসুম শুরু হয় নভেম্বর মাসে। মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত থাকে সরগরম। এবার মৌসুমের শুরুতেই হরতাল-অবরোধ শুরু হয়েছে। এর আগে গত দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে কুয়াকাটায় আশানুরূপ পর্যটক আসেননি। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে হোটেল বুকিং করেছিলেন পর্যটকরা। কিন্তু রবিবারের হরতাল ও মঙ্গলবার থেকে টানা অবরোধের কারণে বুকিং বাতিল করেছেন। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে চলতি বছরের পুরো মৌসুম পর্যটন খাতে ধস নামবে বলে আশঙ্কা তাদের।
-B










