পর্যটকে মুখরিত সুন্দরবন
বিশ্ব খ্যাত সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে আসছেন সুন্দরবনে। সবুজের স্বর্গ উপভোগ করতে সাপ্তাহিক ও বড়দিন মিলে টানা তিন দিনের ছুটিকে কাজে লাগিয়েছেন অনেকেই।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় অনেকেই ঢাকা থেকে সহজেই মোংলা এসে চলে যাচ্ছেন সুন্দরবনে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা পরিবার–পরিজন নিয়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুন্দরবনের নদীতে। হরিণ ও বানরের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আকর্ষণ করছে পর্যটকদের।
ঢাকার ধানমন্ডি থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ফারুক খান জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুন্দরবনের সান্নিধ্য পেতে তিন দিন ভ্রমণ করেছেন সুন্দরবনে। ভীষণ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে শিশুরা খুব মজা করেছে। শীতের সময়ে সুন্দরবনে ঘুরার চেয়ে আদর্শ স্থান আর হতে পারে না।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, সাপ্তাহিক ছুটি ও বড়দিনের ছুটির সুযোগটির পূর্ণ সদ্ব্যাবহার করতে পিছুপা হননি ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দলবেঁধে ঘুরছেন সুন্দরবনে। গত কয়েকদিন ধরে ভীষণ ভিড় বাড়ছে করমজলে। ইংরেজি নতুন বছরকে সামনে রেখে আরও ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ বন কর্মকর্তা।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সুন্দরবন ঘুরে গেছেন। শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সুন্দরবন পূর্ব বনভিাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে ঘণ্টাখানেক থেকে দুপুর ১টার দিকে করমজল ত্যাগ করেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুন্দরবন ভ্রমণে আসছেন। সব মিলে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত এখন সুন্দরবন।
বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, অনিন্দসুন্দর হরিণ, কুমির, বানরসহ বন্য প্রাণীর পদচারণা রয়েছে বনাঞ্চলজুড়ে। বনের দক্ষিণ কোল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগর। নিকটবর্তী সাগরে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্যও নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের অবতারণা করে। এসব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে পৌষের এই শীত উপেক্ষা করে পর্যটকরা সুন্দরবনে আসছেন বলে জানান ট্যুর অপারেটররা।
-B










