সুন্দরবন বন্ধ, বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজে পর্যটকের ভিড়
সুন্দরবন বন্ধ থাকায় বাগেরহাটের আরেক বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা।
শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদ নয়, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার, বাগেরহাটের চন্দ্রমহল, সুন্দরবন রিসোর্ট, পৌর পার্কসহ মুনিগঞ্জ ও দড়াটানা সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব স্থানে ঘুরতে আসেন দর্শনার্থীরা। বিনোদন কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছেন শিশুরা।
রোববার (১০ জুলাই) ঈদের দিন বিকেল থেকেই শনিবার (১৬ জুলাই)রাত অবধি এসব এলাকায় ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
সুন্দরবন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটকে বেছে নিয়েছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। গত সাত দিনে অন্তত ৩ লক্ষাধিক মানুষ বাগেরহাট ভ্রমণ করেছেন বলে ধারণা করছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সপ্তাহজুড়ে জেলার ঐতিহাসিক ও দর্শণীয় এসব স্থানে পর্যটকদের ভিড় উল্লেখযোগ্য ছিল বলে জানিয়েছে বাগেরহাট প্রত্মতত্ব বিভাগ।
পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘুরতে আসা ফাতেমা মল্লিক বলেন, বই-পুস্তকে পড়েছি বাগেরহাট হলো মসজিদের শহর। এত বছরের প্রাচীন সব মসজিদ দেশের কোথাও দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছে ছিল বাগেরহাট আসার। কিন্তু সময় করতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করে এবার সবাই মিলে আসলাম, খুব ভাল লাগছে।
ঢাকা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা হেনা কামাল বলেন, অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাট বেড়াতে আসার। কিন্তু সময়ের অভাবে আসা হয়নি। তাই এ বছর ঈদের ছুটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে আসলাম। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক ভালো। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখলাম, খানজাহান (রহ.) এর মাজার দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে। এক কথায় বলতে গেলে বাগেরহাটের সব কিছু আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। আমাদের দেশে দেখার মতো যে অনেক কিছু আছে, এখানে না আসলে বুঝতাম না। এছাড়া ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে শিশুদের জন্য নানা ধরনের রাইডের ব্যবস্থা আছে। আমার ছেলে-মেয়েরাও জায়গাটা খুব পছন্দ করেছে। সময় পেলে আবারও আসার ইচ্ছা আছে।
পাভেল মাহমুদ নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, ঈদের ছুটিতে নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসলাম। ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ হলো হযরত খানজাহানের একটি অন্যন্যো সৃষ্টি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মসহ সবার এ মসজিদটি দেখতে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।
ঢাকার মিরপুর থেকে ষাটগম্বুজে আসা সঞ্চিতা বলেন, ইচ্ছে থাকলেও ফেরির বিড়ম্বনার ভয়ে বাগেরহাটে আসিনি। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসলাম। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখলাম, খানজাহানের মাজার দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে।
হেলপজোন টুরস অ্যান্ড ট্যাভেলসের সমন্বয়ক শেখ সায়মন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ষাটগম্বুজসহ বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ব্যাপক দর্শনার্থী এসেছে। আমাদের ধারণা ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান (রহ.) এর মাজার, চন্দ্রমহল, কোদলা মঠ, চুনখোলা মসজিদসহ বাগেরহাটের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ৩ লক্ষাধিক দর্শনার্থী এসেছে গত ১সপ্তাহে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এবং সুন্দরবন বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীর পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি করেন সায়মন।
প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ঈদের ছুটিতে গত সাতদিন ষাটগম্বুজ মসজিদসহ জেলার ঐতিহাসিক সব স্থাপনায় দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। ঘুরতে আসা এসব পর্যটকদের জন্য ২০ জন আনসার সদস্য ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে।
-B










