চীনা পর্যটকদের অপেক্ষায় সুইস ঘড়ি বিক্রেতারা
ইউরোপের বিলাসবহুল পণ্যের অন্যতম ক্রেতা চীনা পর্যটকরা। কভিড-১৯ মহামারীসংক্রান্ত বিধিনিষেধে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ভ্রমণ অনুমতি মেলেনি তাদের। ডিসেম্বরে চীন সরকার কভিড-১৯ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাগুলো সরিয়ে নেয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ অবস্থায় চীনা পর্যটকদের ঘিরে সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল ঘড়ির ব্র্যান্ডগুলো আশাবাদী হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছে, যদি প্রচুর পরিমাণ চীনা পর্যটক ইউরোপে ফিরে আসে, তাহলে এ বছর তাদের পণ্যের বিক্রি বাড়তে পারে।
এদিকে ইউরোপের ঘড়ি নির্মাতাদের অন্যতম রফতানি গন্তব্যও চীন। তবে বেইজিংয়ের শূন্য কভিড-১৯ নীতি সামগ্রিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ২০২২ সালে চীনা বাজারে ইউরোপের ঘড়ি রফতানি ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়। ফেডারেশন অব দ্য সুইচ ওয়াচ ইন্ডাস্ট্রির তথ্যানুসারে, ফেব্রুয়ারিতে রফতানি পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। এছাড়া বছরওয়ারি রফতানি বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। জেনেভায় বার্ষিক মেলায় রোলেক্স, কার্টিয়ের, পাটেক ফিলিপসহ ৪৮টি ব্র্যান্ড তাদের সর্বশেষ সংস্করণ প্রদর্শন করে।
চীনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর অনেক আর্থিক বিশ্লেষকই ২০২৩ সালে সামগ্রিকভাবে বিলাসবহুল খাতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অনেকটা বাড়িয়েছেন। কভিড-১৯ লকডাউনের সময় চীনা ভোক্তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সঞ্চয় করেছেন বলে মনে করছেন এইচএসবিসির বিশ্লেষকরা। তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তিন বছরে চীনারা আনুমানিক ৬ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (৯৬ হাজার কোটি ডলার) অতিরিক্ত সঞ্চয় করেছে। মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা আশা করছেন ২০২৩ সালে বিলাসবহুল পণ্য ক্রয়ে চীনা ভোক্তাদের ব্যয় ২০ শতাংশ বাড়বে। ইউএস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০০০-১৯ সালের মধ্যে খাতটির প্রায় ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে ছিল চীনের বিলাসবহুল দ্রব্যপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এ ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই তারা বিদেশে ভ্রমণের সময়ে করেছে, যা ইউরোপের বিলাসবহুল বুটিক ব্যবসায় আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তবে কভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন চীনা বিলাসবহুল গ্রাহকরা অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে পণ্য ক্রয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে সুইচ বিলাসবহুল পণ্য জায়ান্ট রিচেমন্ট খানিকটা সর্তক করে দিয়েছে। রিচেমন্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা বুরখার্ট গ্র্যান্ড বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে চীনা বাজার কীভাবে বিকশিত হবে তার পূর্বাভাস দেয়া কঠিন।’
হার্মিসের পরিচালক গুইলাম ডি সেনেস বলেন, ‘এটা সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই, পর্যটকরা ইউরোপ ঘিরে উৎসাহী। কিন্তু ফ্লাইট, বিশেষ করে ফ্রান্সে এখনো সীমিত।’
বিশ্লেষক জন কক্স জানান, তিনি চীনা পর্যটকদের ইউরোপে ফিরে আসার ওপর নির্ভরকারী সংস্থাগুলোর ওপর আস্থাশীল হবেন না। কভিড-১৯-এর আগে চীনারা ইউরোপে যে হারে ভ্রমণ করত, সে গতি ফিরে আসতে সময় লাগবে বলেও মনে করেন তিনি।
-B










