বিমানবন্দরের সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য থাইল্যান্ডের

ব্যাংকক: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত ও দ্বীপের জন্য বিখ্যাত থাইল্যান্ড। এর রাজধানী ব্যাংককের খ্যাতি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে। থাইল্যান্ডের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত পর্যটন। পর্যটকের বড় একটি অংশ যাতায়াত করে আকাশপথে। পর্যটক বাড়াতে বিমানবন্দরগুলোর ধারণক্ষমতা দ্বিগুণ করতে চায় দেশটির সরকার।
দেশটির বিমানবন্দরগুলোকে উন্নত করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা ঘোষণা করে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন। তিনি জানান, ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরটিতে বর্তমানে ঘণ্টায় ৬০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে, বছরে ছয় কোটি যাত্রী যাতায়াত করে। একটি তৃতীয় রানওয়ে যুক্ত করা হবে। ফলে বিমানবন্দরটিতে প্রতি ঘণ্টায় ৯০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। এতে বার্ষিক ধারণক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তখন বছরে ১৫ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে নতুন টার্মিনালের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরটি আগামী বছরের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ-৫০ বিমানবন্দরে পরিণত হবে। এটি বর্তমানে স্কাইট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্ট অ্যাওয়ার্ডে ৬৮তম স্থানে রয়েছে। যাত্রী ও পর্যটকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই বিমানবন্দরের দীর্ঘ ইমিগ্রেশন ও চেক-ইন লাইন নিয়ে অভিযোগ করেন। কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, ব্যাংককের আরেকটি বিমানবন্দর ডন মিউং। এখানে বর্তমানে বছরে তিন কোটি যাত্রী চলাচল করতে পারে। এর ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি করা হবে।
থাইল্যান্ডকে বলা হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। দেশটির অর্থনীতির চালিকাশক্তি পর্যটন খাত। ২০২১ সালে দেশটির জিডিপিতে ৩৫ হাজার ৬০০ কোটি থাই বাথ যোগ হয়েছে এ খাত থেকে। পর্যটনকে আরো গতিশীল করতে আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোকেও উন্নত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। দক্ষিণাঞ্চলে ফুকেত বিমানবন্দরের বার্ষিক ১ কোটি ২৫ লাখ যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ করা হবে। এছাড়া ফুকেতে আরেকটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে চিয়াং মাই বিমানবন্দরের বার্ষিক ধারণক্ষমতা ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করে ১ কোটি ৬৫ লাখে উন্নীত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন বলেন, ‘থাইল্যান্ড একটি এভিয়েশন হাব হয়ে উঠবে। বিমানবন্দরগুলোকে উন্নত করতে পারলে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে।’
-B










