উড্ডয়নের অপেক্ষায় দেশের তৈরি প্রথম রকেট

বাংলাদেশে রকেট তৈরির আইডিয়া দিয়ে রকেট্রি ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-২০২২ এর সেরা উদ্ভাবক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দুইজন উদ্ভাবক। আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই উড্ডয়নের অপেক্ষায় বাংলাদেশে তৈরি সেই প্রথম রকেট।
দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ ও প্রসারের দায়বোধ থেকে গত ৩-৪ বছর ধরে রকেট্রি ইনোভেশন নিয়ে কাজ করছেন আজাদুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নাহিয়ান আল রহমান অলি। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রায় ১০ বছর ধরে মডেল রকেট তৈরির কাজে যুক্ত তিনি।
বাংলাদেশে মডেল রকেট উৎক্ষেপণের জন্য ইকোসিস্টেম বা সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া তৈরির পাশাপাশি রকেট্রি গবেষণা এবং উন্নয়নে একটি সংবেদনশীল এবং নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্র তৈরি করবেন আজাদুল হক। এখন টিভিকে তিনি বলেন, এটা মাত্রই শুরু হলো। এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা চাই যাতে আরও ছাত্রছাত্রী মহাকাশ ও রকেট সাইন্স সম্পর্কে জানুক। তারা এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করুক। আগ্রহী হোক।
এই ধরণের আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মাঝে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে মন্তব্য করেন নাহিয়ান আল রহমান অলি। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস যে- এটার পর থেকে দেশের ছেলেমেয়েরা অন্য পেশার পাশাপাশি রকেট তৈরির ব্যাপারেও আগ্রহ পাবে। তারা বলবে, এখন থেকে আমরাও রকেট বানাবো।
রকেট্রি গবেষণায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়িয়ে ইকোসিস্টেম তৈরির লক্ষ্যে উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রতিযোগিতা শুরু হয় গত বছর। এটুআই প্রকল্প এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ১২৪টির বেশি দল আইডিয়া জমা দেয়। এর মধ্য থেকে ৩৩টি দল বাছাই করার পর আজাদুল হক ও নাহিয়ান আল রহমান অলিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ হবে উদ্ভাবনী, জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চারটি ধাপে কাজ করছে সরকার। মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে তরুণদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে সরকারি সহায়তার ঘোষণাও দেন প্রতিমন্ত্রী।
পলক আরও বলেন, ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে আত্মনির্ভরশীল, আত্মকেন্দ্রিক নয়। আমরা বিশ্বের সাথে সংযুক্ত থাকবো। সারা বিশ্বের কাছে যা জানার, যা শেখার তা আমরা শিখবো।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের মহাকাশবিষয়ক জ্ঞান বাড়াতে পাঠ্যসূচিতে এ বিষয়ে অধ্যায় যুক্ত করার আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী। এই ধরণের প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বিশ্বের নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারে অনেক অসাধারণ কাজ করছেন। এই রকেট্রি ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ আমাদের দৃষ্টিসীমাকে প্রসারিত ও মহাকাশ গবেষণায় তরুণ প্রজন্ম তথা আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করবে।
তরুণ উদ্ভাবকদের আগ্রহ ধরে রাখতে আগামীতে বিভিন্ন বিষয়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত রাখতে চান আয়োজকরা। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী উদ্ভাবক আজাদুল হককে (ব্রিজ টু বাংলাদেশ) ১ কোটি টাকা এবং উদ্ভাবক নাহিয়ান আল রহমান অলিকে (ধুমকেতু এক্স) ৫০ লাখ টাকার সিডমানি এবং সার্টিফিকেট দেয়া হয়।
-B










