ঝড়-জলচ্ছাস রোধে করা বাঁধ এখন পর্যটকে মুখর

ঝড়-জলচ্ছাস ঠেকাতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বলেশ্বর নদীর তীরে করা বাঁধ এখন আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে শরণখোলাবাসীর কাছে। মাটির বাঁধকে টেকসই করতে দেওয়া কংক্রিটের ব্লক রীতিমত দর্শনীয় স্থানে রুপ নিয়েছে।
এক সাথে নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার মানুষ আসছে শরণখোলা উপজেলা সদর সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর তীরে। একদিকে বিশালাকৃতির নদী, নদীর ওপারে বন, সুদৃশ্য নদীর তীর, নীল আকাশ সব মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য; যা আকৃষ্ট করছে দর্শনার্থীদের।
এদিকে বলেশ্বর নদীর তীরের এই পর্যটন সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। সম্ভাবনাময় এই তীরের নাম দেওয়া হয়েছে রিভারভিউ ইকো পার্ক। রায়েন্দা-মাচুয়া ফেরিঘাটের কিচু সামনে থেকে বড়ইতলা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে ব্লকে লাল ও হলুদ রং করা হয়েছে। বসানো হয়েছে রঙ্গিন ছাতা ও বীচ খাট। এসব কর্মযজ্ঞে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা।
বিভিন্ন প্রকার খাবারের পশরা নিয়ে বসেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। নদীর সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে এনেছে স্পিড বোড। ১০০ টাকা ব্যয়ে স্পিড বোডে ঘুরতে পারেন দর্শনার্থীরা। সব মিলিয়ে ২০ জনের অধিক বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যটক বৃদ্ধির সাথে রিভারভিউ ইকো পার্ক ঘিরে সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেই সাথে সুন্দরবনের কটকা-কচিখালী পর্যটন এলাকায়ও দর্শনার্থী বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিকেলে নদীর তীরে ঘুরতে আসা পিরোজপুর সদরের আনিস খান বলেন, নদীর স্রোত ও আকাশে সাদা মেঘের ভেসে বেড়ানো দেখে খুবই ভাল লেগেছে। এমন দৃশ্য সচারচর দেখা যায় না।
রিভারভিউ ইকোপার্কে ফুসকা বিক্রেতা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেশ কিছুদিন হল বিকেল থেকে এখানে ফুসকা বিক্রি করি। প্রতিদিন অনেক লোক আসে। বেচা-বিক্রিও ভাল হয়। আমি ছাড়াও কয়েকজ আছে যারা ফুসকা, চানাচুর, ঝালমুড়ি ও আইসক্রিম বিক্রি করেন।
স্পিডবোড চালক মো. সেলিম বলেন, জন প্রতি ১০০ টাকার বিনিময়ে ১০ মিনিট স্পিড বোডে ঘুরাই দর্শনার্থীদের।স্পিডবোডে ঘুরে তারাও খুশি হয়, আমারও আয় ভাল হয়।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকি বলেন, বলেশ্বর নদীর তীরকে আমরা পর্যটন বান্ধব করে গড়ে তুলেছি। আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি, কাজ চলছে। এরই মধ্যে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমান দর্শনার্থী আসছে। সেই সাথে অর্থনীতির বিকাশ শুরু হয়েছে। নতুন ধরনের জীবাকার সৃষ্টি হয়েছে। এখানে ছোট ছোট উদ্যোক্তারা নানা ধরণের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। যার মাধ্যমে অনেকের জীবীকা নির্বাহ হচ্ছে। ভবিষ্যতে আধুনিক রেষ্টুরেন্ট ও হোটেল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান উপজেলার এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, শরণখোলা থেকে সুন্দরবনের কটকা. কচিখালী ও দুবলার চর যাওয়া খুবই সহজ। কিন্তু পরিচয় ও জানাশুনা না থাকায় সবাই মোংলা দিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। বলেশ্বর নদীর তীরে যদি দর্শনার্থীরা বেশি আসতে থাকে, তাহলে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী ও দুবলার চর এলাকায়ও দেশিবিদেশী দর্শনার্থী বৃদ্ধি পাবে। আমাদের সেই ধরণের প্রচার-প্রচারণা চালানোর প্রক্রিয়া রয়েছে।
যেভাবে যাবেন রিভারভিউ ইকোপার্কে: ঢাকাসহ যেকোন স্থান থেকে পরিবহনে সড়কপথে শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে ভ্যান বা অটোতে রায়েন্দা-মাসুয়া ফেরিঘাট হয়ে বড়ইতলায় যেতে হবে। এছাড়া পায়ে হেটেও যাওয়া যায়, তাতে সময় লাগবে ১০ থেকে ১৫মিনিট।
-B










