মাঝ আকাশে বিকল ইঞ্জিন, পাইলটের দক্ষতায় বাঁচল ১৪৫ যাত্রী

বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল সিডনিগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ।
উড্ডয়নের দুই ঘন্টা পরই মাঝ আকাশে বিকল হয়ে যায় প্লেনটির একটি ইঞ্জিন। পাইলটের তৎপরতায় চরম সংকট কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই প্লেনটি অবতরণ করে গন্তব্যে। বুধবারের (১৮ জানুয়ারী)এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়ায়।
জানাগেছে, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে কান্তাস কিউএফ১৪৪ প্লেনটি ১৪৫ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে সিডনির উদ্দেশ্যে। অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস সংস্থার বোয়িং ৭৩৭-৮০০ প্লেনটি উড্ডয়নের বেশ কিছুক্ষন পরে মাঝ আকাশে বিকল হয়ে যায়। এরপরই প্লেনটি দ্রুত গতিতে নীচে নেমে আসে। কমে যায় প্লেনটির গতিও। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাইলট এয়ার ট্রাফিককে বার্তা পাঠান। প্লেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্লেনের একটি ইঞ্জিনেই চালক প্লেনের ভারসাম্য বজায় রেখে এক ঘন্টা বিলম্বে সিডনিতে অবতরণ করতে সমর্থ হয়। জানা যায়, কান্তাস কিউএফ১৪৪ উড়ানটি সিডনিতে স্থানীয় সময় সাড়ে তিনটের সময় নিরাপদে অবতরণ করে।
এদিকে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া প্লেনটি সিডনি বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই সব রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছিল সিডনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ১২টি দমকলের ইঞ্জিন তৈরি রাখা হয়েছিল। প্লেনটি অবতরণের পর সকল যাত্রীকে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে, অবতরণের পরই প্লেনটিকে পরীক্ষা করেন ইঞ্জিনিয়াররা। তবে কী কারণে মাঝ আকাশে একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই এর কারণ জানা যাবে।
এদিকে কান্তাস উড়োজাহাজ সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, ‘এভাবে মাঝ আকাশে আচমকা প্লেনের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল। তবে আমাদের পাইলটদের এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাই এক ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করেই নিরাপদে প্লেনটিকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পেরেছেন পাইলটরা।’
প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ উড়োজাহাজ সংস্থা হিসেবে পরিচিত কান্তাস। বিগত ৭০ বছরে কান্তাসের প্লেন দুর্ঘটনায় কোনও যাত্রী প্রাণ হারাননি।
-B










