হরতাল-অবরোধে ফাঁকা রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো

ঢাকা: নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এরই মধ্যে সাত দফায় দুই দিন করে অবরোধ ডেকেছে বিএনপি ও সমমনা বিরোধী দলগুলো। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে কমে গেছে পর্যটক ও দর্শনার্থীর সংখ্যা।
জাতীয় চিড়িয়াখানা, লালবাগ কেল্লা, হাতিরঝিল, জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পর্যটক কমে যাওয়ায় এসব বিনোদন কেন্দ্রের আশপাশে গড়ে উঠা ক্ষুদ্র পুঁজির বিভিন্ন ব্যাবসায়ীরাও আয় হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
আরও পড়ুন: স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ায় উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণ
বুধবার (২৯ নভেম্বর) অবরোধের দিনে পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লায় দেখা গেছে টিকিট কাটার জন্য মাত্র কয়েকজন লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে স্বাভাবিক সময়ে কেল্লায় প্রবেশের টিকিট কাটতে প্রচুর মানুষ ভিড় হতো। তখন টিকিট কাটার জন্য কমপক্ষে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা লাগতো, সেখানে এখন দুই থেকে তিন মিনিটেই দর্শনার্থীরা টিকিট পাচ্ছেন।
শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে দেখা গেছে গেটে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা খোশগল্প করছেন। অনেক সময় পর পর দুই-একজন দর্শনার্থী আসলেও পুরো জাদুঘর এলাকাই নীরব মনে হচ্ছিলো। জাদুঘরকে কেন্দ্র করে এর সামনে গড়ে ওঠা ফুচকা-চটপটির দোকান এবং চা দোকানগুলোতেও মানুষ ছিল একেবারে হাতেগোনা। এসব দোকানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হরতাল-অবরোধে দোকান করলে দিন শেষে সারা দিনের খরচের টাকাও উঠে না।
জাদুঘরের সামনের ফুচকার দোকানি জাকির হোসেন জানান, হরতাল-অবরোধের কারণে বিক্রি একেবারে কম হয়। স্বাভাবিক সময়ে সারা দিন ব্যস্ত সময় কাটালেও হরতালের দিনে দোকানে বসে থাকা ছাড়া আর কাজ থাকে না।
রাজধানীর হাতিরঝিলে অবরোধে চক্রাকার বাস ও ওয়াটার বোট চললেও অন্যান্য সময়ের মতো মানুষ প্রয়োজন ছাড়া এখানে ঘুরতে আসছে না বলে জানান সেখানকার ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। ভ্রাম্যমাণ চা ও পান সিগারেট বিক্রেতা ইয়াসিন জানান, হরতাল-অবরোধ না থাকলে সারা দিনে অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে বা আড্ডা দিতে আসে। তখন আমাদের বেচা-বিক্রিও ভালো হয়। অবরোধ থাকলে কেউ আর আগের মতো এখানে আড্ডা দেয় না, এ কারণে আমাদের আয়ও অনেক কমে গেছে। ইয়াসিন বলেন, মনে হচ্ছে নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে আর এখানে চা বিক্রি করে পোষাবে না। কয়েকদিন দেখে অন্য কোথাও চলে যাবো।
চলমান হরতাল অবরোধে দর্শনার্থী আগের চেয়ে কম আসছে বলে জানায় মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও। জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. নুরুল ইসলাম জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে হরতাল-অবরোধ না থাকায় দর্শনার্থীদের বেশির ভাগই সে সময়ে আসছেন। তবে যেদিন অবরোধ থাকে সেদিন স্বাভাবিকের চাইতে অনেক কম দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন।
-B










