অস্ট্রেলিয়ায় কমেছে চীনা পর্যটকের সংখ্যা

ভিসামুক্ত দেশগুলোর প্রতি চীনা পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। এ কারণে সংকুচিত হয়ে আসছে অস্ট্রেলিয়ায় চীনা পর্যটকের সংখ্যা।
ট্যুর অপারেটর ও ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুসারে, মিতব্যয়ী চীনা নাগরিকরা তুলনামূলক কম খরচে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ভিসামুক্ত দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। এমনকি খরচ বাঁচাতে চীনের মধ্যেই বাড়ির পাশের পর্যটন কেন্দ্রে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে বেশি।
মূলত অস্ট্রেলিয়ার ভিসাসংক্রান্ত খরচ ও জটিলতার কারণে দেশটিতে চীনা পর্যকদের সংখ্যা কমে আসছে। চীনাদের জন্য গ্রুপ ট্যুর আয়োজনকারী সংস্থা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ইজি গোয়িং ট্রাভেল সার্ভিসেসের ডিরেক্টর জনি নি জানান, তার প্রতিষ্ঠান কভিড১৯ মহামারীকালের ক্ষয়ক্ষতির মাত্র ৪০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। চীনা পর্যটকরা অনিশ্চিত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মিতব্যয়ের কারণে সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাসহ সহজে যাওয়া-আসা গন্তব্যগুলো পছন্দ করে।
জন নি বলেন, ‘কভিড-পরবর্তী সময়ে কিছু ফ্লাইট ও বাসস্থানসহ ভ্রমণকারীদের খরচ প্রাক-কভিড স্তরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। সেই সঙ্গে থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের ভিসামুক্ত নীতিগুলো বেশ আকর্ষণীয় হওয়ায় চীনা পর্যটকরা অস্ট্রেলিয়াবিমুখ হচ্ছেন।’
বিশ্লেষকরা জানান, শ্লথ অর্থনীতি, প্রপার্টি খাতের ঋণ সংকট ও অস্থির আর্থিক বাজারের কারণে প্রভাবিত হয়েছে চীনা ভোক্তা চাহিদা, যা ঐতিহ্যগতভাবে চীনা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর আয় কমিয়ে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ট্যুরিজম এক্সপোর্ট কাউন্সিলের মতে, কভিড-পূর্ববর্তী সময়ে চীনা পর্যটকদের প্রায় ২৬ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ায় ঘুরতে যেত। কভিড-পরবর্তী সময়ে এ হার হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরদের প্রকাশিত তথ্যানুসারে, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমান চীনা পর্যটন আয় ২০১৯ সালের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ট্যুরিজম এক্সপোর্ট কাউন্সিলের (এটিইসি) তথ্যমতে, চীনা ছুটির দিনগুলোকে কেন্দ্র করে আসা পর্যটকের বহর অস্ট্রেলিয়ান অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। কিন্তু মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লাগায় সংকুচিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় চীনা পর্যটনের হার।
এর আগে খবরে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার চীনা পর্যটক আগমনের প্রত্যাশা করছে ইন্দোনেশিয়া। মহামারীর কারণে প্রায় তিন বছর চীন থেকে ইন্দোনেশিয়ার রিসোর্ট দ্বীপ বালিতে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ ছিল। চীন কভিড নীতিমালা শিথিল করার পর সম্প্রতি এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়েছে। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চীন থেকে ৯৪ হাজার ৯২৪ ভ্রমণকারী এসেছে দেশটিতে।
-B










