স্বপ্নের আকাশযান সোলার ইমপালস-২

বিস্ময়কর এক উড়োজাহাজের নাম সোলার ইমপালস-২। এটি পুরো পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে জ্বালানি তেল ছাড়াই। শূন্যে স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে টানা এক বছর। কর্মক্ষমতা ছাড়াও চমক আছে এর অদ্ভুত আকৃতিতে। বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজের মতো বিস্তৃত ডানা নিয়ে এটি হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নের আকাশযান। এটি কার্বন ফাইবারের তৈরি হওয়ায় ওজন অত্যন্ত কম। এই বিমানের আছে ৭২ মিটার লম্বা ডানা। এর ওপর বসানো ১৭ হাজার ২৪৮টি সোলার প্যানেল। এর সর্বোচ্চ গতি ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৮ হাজার ফুট ওপরে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।
এমন কারিশমা দেখার পর ২০১৯ সালে এই সৌরবিমানের স্বত্ব কিনে নেয় যুক্তরাষ্ট্র-স্পেনের সংস্থা ‘স্কাইডোয়েলার অ্যারো’। তারা এর ভেসে থাকার গুণ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে উপগ্রহ হিসেবে ব্যবহার করে নজরদারির কাজে লাগাতে চায়। ২০০৩ সালে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে পরিবেশবান্ধব বিমান তৈরির প্রচেষ্টা শুরু করেন সুইস প্রকৌশলী বার্ট্রান্ড পিকার্ড ও বার্ট্রান্ড বরশবার্গ। প্রায় ৯ কোটি ইউরোর বাজেটে ২০০৯ সালে প্রথম আকাশে ওড়ে সোলার ইমপালস-২। ২০১৫ সালে তারা এই উড়োজাহাজ নিয়ে বেরিয়েছিলেন বিশ্ব পরিক্রমায় সৌরবিমানের কার্যকারিতা দেখে প্রাথমিক ভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আমেরিকা সেনা। মিলারের সংস্থার সঙ্গে ১ কোটি ১৪ লক্ষ ডলারের চুক্তিও করেছে তারা। বর্তমানে আমেরিকার কোনও ড্রোনই টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি উড়তে পারে না। সেই সমস্যা মেটাতে পারে ‘সোলার ইমপালস ২’।
২০২৩ সাল থেকেই এই বিমানের বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্ভব হবে বলে আশাবাদী ‘স্কাইডোয়েলার অ্যারো’-র কর্ণধার। তাঁর মনে, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি আগামী দিনে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সামরিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বিমানটি।
মিলার জানিয়েছেন, ‘সোলার ইমপালস ২’-এর চালকহীন সংস্করণও তৈরি করতে চান তাঁরা। এর ফলে ভবিষ্যতে নজরদারি বা হামলাকারী ড্রোন হিসেবেও এই সৌরবিমানকে ব্যবহার করা যাবে। দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনে সংস্থার বিমান গবেষণাকেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত সৌরবিমানের নয়া সংস্করণটির এক ডজনেরও বেশি পরীক্ষামূলক উড়ান হয়েছে। হয়েছে আরও কিছু পরিবর্তন।
মহাকাশে ভেসে থাকা উপগ্রহগুলির কার্যকাল শেষ হয়ে গেলেও অনেক সময়ই সেটি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায় না। মহাকাশবর্জ্য হিসেবে ভেসে বেড়ায় সেগুলি। অন্য উপগ্রহ বা মহাকাশযানের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। এ ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা নেই। পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য ব্যবহার হয় না ‘সোলার ইমপালস ২’-তে। ফলে পরিবেশ দূষণের কোনও সম্ভাবনা নেই। আশঙ্কা নেই পৃথিবীকে ঘিরে থাকা ওজোন স্তরের কোনও ক্ষতিরও। জীবাশ্ম-নির্ভর জ্বালানি চালিত রকেট ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
শুধু ওড়াই নয়। বিনা জ্বালানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে ওই সৌরবিমান। আর এই অভিনব প্রযুক্তিগত কৌশল তাকে এই নতুন ভূমিকায় কার্যকর করে তুলেছে।
-B










