দূষিত হচ্ছে সাগর, সৈকতের অধিকাংশ হোটেলের নেই পরিবেশ ছাড়পত্র
পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে।
শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীষ্ম এমন কোনো ঋতু নেই যখন সমুদ্র সৈকতের চেহারা বদলায় না। প্রত্যুষে এক রকম তো মধ্যাহ্নে এর রূপ অন্য রকম। প্রতিদিন অসংখ্য দেশী-বিদেশেী পর্যটক এই সৈকতে আসেন।
অথচ পর্যটন এই শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজের ইটিপি প্ল্যান্ট ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।
হোটেলগুলোর স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় মানববর্জ্যগুলো বিভিন্ন নালা, পুকুর, খাল হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে।
ফলে আশঙ্কাজনকভাবে সাগর দূষিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক মুফিদুল আলম জানান, কক্সবাজারে ৫৩৪টি হোটেলের ইটিপি ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।
এসব হোটেলের কর্তৃপক্ষকে শুনানির জন্যা ইতিমধ্যে নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়।
চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক বলেন, পর্যটন শহরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মানুষ হোটেল গড়ছে, ব্যবসা করছে। কিন্তু মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ইটিপি নেই।
সৈকতকে দূষণমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, শুনানিতে কলাতলি মোড়ের হোটেল সি পার্ক ও লেগুনা বিচ রিসোর্ট নামের আবাসিক হোটেল দুটিকে ৫০ হাজার করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে ইটিপি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কক্সবাজারের পরিবেশবাদীরা শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজের বর্জ্য সরাসরি সাগরে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে আসছেন। হোটেলগুলোর স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় মানববর্জ্যগুলো বিভিন্ন নালা, পুকুর, খাল হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। ফলে আশঙ্কাজনক হারে সাগরে দূষণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিনিয়ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সমুদ্র সৈকতেও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃতি মারাত্মক হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে এবং পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে পুরো পৃথিবীকে।
-B










