বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা কাটছে না
বিলাসজাত পণ্যের আমদানিতে শতভাগ মার্জিন দেয়া হয়েছে। নানা উদ্যোগে আমদানিতে লাগাম টানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এজন্য বিদ্যমান নীতিমালায় শিথিলতা আনা হচ্ছে। এরপরেও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কাটছে না। গতকাল খোলা বাজারে বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম আবার ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যাংকেও নগদ ডলারের দাম ১০০ টাকা ছুঁই ছুঁই করছে। বর্তমানে ব্যাংকে নগদ ডলার সর্বোচ্চ ৯৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নগদ ডলারের তীব্র সঙ্কট থাকায় এর দাম বেড়েই যাচ্ছে।
এমনি পরিস্থিতিতে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে আবারো বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার অনিবাসীদের জন্য দেশী ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রায় সঞ্চয় বাড়াতে সুদহারের সীমা তুলে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো নিজেদের প্রয়োজনে বাড়তি সুদ দিয়ে অনিবাসীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত সংগ্রহ করতে পারবে।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন এ নির্দেশনার ফলে অনিবাসীরা দেশীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত রাখতে উৎসাহিত হবে। এতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ দিকে গতকাল খোলা বাজার থেকে এক ডলার কিনতে ১০০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১০০ টাকা ৩০ পয়সা লেগেছে। এর আগে গত ১৭ মে খোলাবাজারে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল ডলারের দাম। ওই সময় ১০৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল প্রতি ডলার।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খোলাবাজারে ডলারের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সে কারণেই ডলারের দাম ফের ১০০ টাকার ওপরে উঠেছে। খোলা বাজারে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকে নগদ ডলারের দামও বেড়ে যাচ্ছে। গতকাল প্রতি ডলার ৯৮ টাকা থেকে ৯৯ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ ডলারের দামে বেশি হস্তক্ষেপ করছে না। তারা শুধু আমদানি, রেমিট্যান্স ও রফতানি বিল কেনার বিষয়টিও বেশি নজরদারি করছে।
এ দিকে ইউরোর দর আরো কমেছে। এতে রফতানিকারকরা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কেননা ইউরোর দর পড়তে থাকলে ওই দেশে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। ফলে তারা আমদানি কমিয়ে দিতে পারে। গত শনিবার থেকে ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দামের নিচে চলে গেছে। আগে ডলার ও ইউরোর দাম সমান ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। ডলারের চাহিদার জোগান দিতে ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস গত মঙ্গলবার (১৩ জুলাই )৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। বুধবার (১৪ জুলাই)বিক্রি করা হয়েছে ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
ঈদের ছুটির আগে কয়েক দিনে বিক্রি করা হয়েছিল ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১৩ দিনে (১ থেকে ১৩ জুলাই) পর্যন্ত ৫৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। এর ফলে গত ১২ জুলাই বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ দুই বছর পর ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।
গতকাল রোববার (১৭ জুলাই)দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৩৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। বিদায়ী অর্থবছরেও ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো তুলে নেয়া হয়।
এ দিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় কমিয়ে ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
-B










