পদ্মা সেতুতে রেল ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু

পদ্মা সেতুতে রেল ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ট্র্যাক বসানোর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
অর্ধশতাধিক কর্মী এই কাজে অংশ নিয়েছেন।
এ সময় তিনি বলেন, আগামী চার মাসের মধ্যে ট্র্যাক বসানোর কাজ শেষ হবে। এই রেলসেতু দিয়ে যাত্রীবাহী ছয়টি ট্রেন চলবে।
প্রকল্পের ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ, মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশ, ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ। এছাড়া কাজের ফাইন্যান্সিয়াল অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ এবং ফিজিক্যাল অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। এই মূল্যায়ন কনসালটেন্ট গ্রুপের, তবে চায়না কনস্ট্রাকশন গ্রুপের মূল্যায়ন কাজের অগ্রগতি আরও অনেক বেশি।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুতে রেল লাইন বসানোর কাজ শুরু হলো আগস্ট মাসেই। সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগস্টের প্রথমার্ধ থেকে রেল লাইন বসানোর কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২০২৩ সালের জুনে ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত পদ্মা সেতু দিয়ে রেল চলাচল শুরু হবে।
পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী বছর পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে। সেই লক্ষে কাজ চলছে। রেললাইন বসানোর বেশিরভাগ কাজ করা হবে রাতে। পদ্মা সেতু দিয়ে নিয়মিত চলবে গাড়ি। তাই গাড়ির গতি কমিয়ে রেল ট্র্যাক বসানোর কাজ চলবে। প্রথমে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চালু হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পদ্মা সেতু ও দুই প্রান্তে রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর প্রথম থেকেই যানবাহন চালুর সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। রেলের এই প্রকল্পে জিটুজি পদ্ধতিতে অর্থায়ন করছে চীন। যার মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। রেললাইন ও এর অবকাঠামোর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ঢাকা থেকে মাওয়া অংশের কাজ হয়েছে ৬২ শতাংশ ও মাওয়া থেকে ভাঙ্গা অংশের কাজ হয়েছে ৮১ শতাংশ। ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশের ৫২ শতাংশ কাজ হয়েছে।
রেল ট্র্যাক বসানোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীসহ রেল মন্ত্রণালয় ও পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
-B










