হাজারো পর্যটকের শ্বাসরুদ্ধকর রাত কাটলো গভীর সমুদ্রে

দীর্ঘ ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় পর সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারে ফিরেছে পর্যটকবাহী জাহাজ বে ওয়ানের যাত্রীরা। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ ১৩০০ যাত্রী নিয়ে গভীর সমুদ্রে আটকে ছিল টানা ১১ ঘণ্টা।
গত মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে যাত্রা দিয়ে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে পৌঁছার কথা ছিল সন্ধ্যা ৫টায়। কিন্তু জাহাজটি গভীর সমুদ্র আটকা পড়ে দীর্ঘ সময়। জাহাজের যাত্রীদের গভীর সমুদ্রে বার আউলিয়া নামের অপর একটি জাহাজটি তুলে ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বুধবার ভোর ৪টায়।
এ সময়জুড়ে জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে ছিল আতঙ্ক। পর্যটকদের অভিযোগ, জাহাজ কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা আর অসহযোগিতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জাহাজে ছিল যাত্রীদের তীব্র খাবার সঙ্কট। শিশু ও বয়স্ক মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে অনেকে বসার জায়গাও পাননি। বিশেষ করে নারী পর্যটকেরা জানান, ছোট শিশু আর বয়স্ক মানুষের ভোগান্তী ছিল চরমে। অনেকে বসার জায়গা না পাওয়ায় ১১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ফেরত এসেছেন বলে অভিযোগ করেছেন। কোলকাতা থেকে আসা চিকিৎসক দম্পতি জানান, জাহাজ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা আর অসহযোগিতা দেখা গেছে। জাহাজের মাত্র ১৫ শতাংশ যাত্রী খাবার পেয়েছে।
এ চিকিৎসক দম্পতি বলেন, আগের দিন ভোর ৫টায় তারা ঘাটে আসে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য আর পরদিন ভোর ৫ টায় ফিরেছে, সেন্টমার্টিন দেখার সুযোগও হলো না, মাত্র ৪৫ মিনিট দ্বীপে অবস্থান করার সুযোগ হয়েছিল। ঢাকা থেকে আসা আরেক দম্পতি জানান, সমুদ্র উত্তাল ছিল, এ সময় বারবার বলার পরও কর্তৃপক্ষ লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করেনি। সেই সাথে তিনটি সাধারণ সিঙ্গারার দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা, খিচুড়ির দাম রাখা হয়েছে ২৫০ টাকা।
আরেক পর্যটক জানান, তিনি সাড়ে ৭ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছেন কেবিনের, তাকে খাবারও দেয়া হয়নি। তার স্ত্রী জানান, সন্তানদের নিয়ে রাতভর সমুদ্রে ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতা হলো। সব যাত্রীর খাবার না পাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে এক কর্মকর্তা বলেন, সবাইকে খাবার দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। খাবারের অতিরিক্ত দাম নেয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাহাজের খাবারের দোকান কর্তৃপক্ষ অন্যজনকে ভাড়া দিয়েছে, এখানে জাহাজ কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই।
জাহাজটির কক্সবাজার অফিসের ইনচার্জ হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে জাহাজটি ঘাটে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সাগরে জাহাজটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নোঙর করতে হয়। এর মধ্যে জাহাজের যাত্রীদের ফেরার জন্য বারো আউলিয়া জাহাজটি প্রেরণ করা হয়। ওই সময় সাগর উত্তাল থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের জাহাজ পরিবর্তন সাগরে অসম্ভব হয়ে যায়। ফলে সাগর শান্ত হওয়ার পর জাহাজ পরিবর্তন করে ঘাটে ফিরতে বিলম্ব হয়েছে।
খাবার সঙ্কট, অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, ১১ শত যাত্রী ছিল। যেখানে খাবার মজুদ ছিল কমপক্ষে ৪ হাজার জনের। অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কক্সবাজার থেকে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে কর্ণফুলী জাহাজে। এটি সাময়িক ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিল। এখন স্বাভাবিক।
এই প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি। সাগর ঐদিন উত্তাল থাকায় সমস্যাটি হয়েছে বলে শুনেছি। জাহাজ মালিকেরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে কমিটমেন্ট করেছেন আজ ২২ ডিসেম্বর থেকে এধরণের কোন ঘটনা আর ঘটবে না। জেলা প্রশাসনের তরফে এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাব জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
-B










