ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ : গৌরব ঐতিহ্যের ১০২ বছর

গৌরব-ঐতিহ্য ও দীর্ঘ সংগ্রামের ১০১ বছর পাড়ি দিয়ে আজ (১ জুলাই) ১০২তম বছরে পদার্পণ করেছে প্রাচীনতম ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২১ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সব ইতিবাচক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতির ক্রান্তিলগ্নে অসংখ্যবার পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নিয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বলা হয়, বাঙালি নাগরিক সমাজের সাথে ব্রিটিশ সরকারের দীর্ঘ বোঝাপড়ার ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গভঙ্গ রদের অল্প কিছুদিন পরেই ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা আসে। তারই অংশ হিসেবে ওই বছরের ২৭ মে নাথান কমিশন গঠিত হয়।
১৯১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কমিশন ইতিবাচক রিপোর্ট দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ আরো এক ধাপ এগিয়ে যায়। তবে এর পরই বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠলে সেই কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে যায়। ১৯১৭ সালে স্যাডলার কমিশন পুনরায় ইতিবাচক রিপোর্ট দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা চূড়ান্ত হয়। অবশেষে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ১৯২০ পাস হয়। ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এই বিলে সম্মতি প্রদান করেন। এর ফলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শুরুর দিকে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার্থে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও ধীরে ধীরে তা সেকুলার রূপ ধারণ করতে থাকে এবং এখন অবধি সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি।
৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। ২৫ মার্চ কালরাতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা লক্ষণীয়।
দেশের এই প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা অনেক বেশি। কিউএস র্যাং কিংসহ অন্যান্য র্যাং কিংয়ের তালিকায় দিন দিন নিম্নগামী হওয়ার কারণে অনেক সমালোচনা হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে। বিশ্ব যখন ডিজিটালাইজেশনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রয়ে গেছে পশ্চাৎপদ।
সরকারি চাকরির প্রতি অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মোহ এবং লেজুড়বৃত্তির শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতির কারণে সমসাময়িক গবেষক তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পরিবেশ-পরিস্থিতি, স্বল্প বাজেট, রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে পদায়ন, ক্ষমতাসীনদের একক আধিপত্য ও ভিন্নমত দমনে গড়ে ওঠা সংস্কৃতির কারণে গণমানুষের চাওয়াকে পাওয়ায় পরিণত করতে অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে। এত কিছুর পরেও বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে অনেক কিছু দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনে হয়রানির অবসান, ফলাফল প্রদান, বিভিন্ন ফি প্রদান কার্যক্রম চালু হয়েছে। ভর্তি ইচ্ছুকদের অর্থনৈতিক দিক ও হয়রানি বিবেচনায় বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। গত ২৯ জুন অনলাইনে মার্কশিট উত্তোলন ও ভুল সংশোধনের জন্য ট্রান্সক্রিপ্ট সফটওয়্যার ও তথ্য বাতায়ন উদ্বোধন করেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি মানববিদ্যাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামীর শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় আরো কার্যকর অবদান রাখবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন : ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’। ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান আজ সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এর আগে সব হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা র্যা লি-সহকারে কেন্দ্রীয় মাঠে সমবেত হবে। এরপর জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোর পতাকা উত্তোলন, পায়রা ওড়ানো, কেক কাটা এবং সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে থিম সং পরিবেশিত হবে। বেলা ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিবিড় চর্চা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ’ নামক জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে গতকাল এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিার্থী, অভিভাবক, শিকমণ্ডলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
-B










