সুনীল অর্থনীতি পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে

পর্যটন মহাপরিকল্পনা সম্পন্ন হলে সুনীল অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।
তিনি বলেন, সুনীল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে পর্যটনশিল্পের বিকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড যে পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে তাতে দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র পর্যটনের উন্নয়নে বিশদ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বুধবার (১৯ অক্টোবর)রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে "মুজিব'স বাংলাদেশ:বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি ও পর্যটন'' শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের সামনে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। উন্নত দেশের মর্যাদায় উন্নীত হতে দেশকে এগিয়ে নেবে সমুদ্রভিত্তিক এই অর্থনীতি।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্র পর্যটনের সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এ পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে। বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনে সময়োপযোগী ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাবে কর্মসংস্থান, অর্জিত হবে এসডিজি, শক্তিশালী হবে জাতীয় অর্থনীতি এবং পর্যটনশিল্প অংশীদার হবে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০৪১ অর্জনে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ডঃ মো: কাউসার আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জ্বালানী সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডঃ ফারহিনা আহমেদ এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আবুল মনসুর। এছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যটন অংশীজন সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
সমুদ্রের মৎস্য, প্রাণিজ ও বৃক্ষজ সম্পদ, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ, পানিসম্পদ, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, সামুদ্রিক ও সমুদ্র সৈকত, উপকূলীয় ও দ্বীপ পর্যটনের বিকাশ, উপকূলীয় অঞ্চলের নানাবিধ সম্পদ ও সম্ভাবনা, শিক্ষা, গবেষণা, স্থাপত্যশিল্পসহ নানামাত্রিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করাই সুনীল অর্থনীতির লক্ষ্য বলে অন্যান্য বক্তারা মন্তব্য করেছেন।
বক্তারা বলেন সামুদ্রিক পর্যটনে অপার সম্ভাবনার নাম বাংলাদেশ। উপকূল ও সমুদ্রে ছোট-বড় সব মিলিয়ে রয়েছে ৭৫টি দ্বীপ, রয়েছে প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এলাকা; যেগুলো পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
তাঁরা বলেন, আমাদের রয়েছে গভীর সমুদ্রের জলজ প্রাণবৈচিত্র্য, প্রবাল বসতি, সামুদ্রিক ঘাসকেন্দ্রিক জলজ বসতি, বালুময় সমুদ্রসৈকত, বালিয়াড়ি, জলাভূমি, প্লাবন অববাহিকা, মোহনা, উপদ্বীপ, নানা ধরনের দ্বীপ এবং ম্যানগ্রোভ।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং মহীসোপানের পর্যটনের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে সরকার সপ্তম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনার অধীন সুনীল অর্থনীতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে, যেখানে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা (এসডিজি) বাস্তবায়নে পর্যটনের ভূমিকা বাড়াতে সামুদ্রিক পর্যটনে জোর দিতে হবে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
-B










