হরতাল-অবরোধে সুন্দরবনে পর্যটক খরা

টানা হরতাল-অবরোধে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন খাতে। ভরা মৌসুমেও খুলনা অঞ্চল থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না জাহাজ। বাতিল হচ্ছে পূর্ব নির্ধারিত একের পর এক ট্যুর। বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করে আর্থিক লোকসানের মুখে ট্যুর অপারেটররা। প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সব কিছুর ওপর।
ট্যুর অপারেটররা জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি বারবার আকর্ষণ থাকে পর্যটকদের। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসকে ধরা হয় পর্যটন মৌসুম। এ সময়ে পর্যটক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সুন্দরবনে পর্যটক সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
আরও পড়ুন: ভিসা ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে ভারতীয়রা
তবে চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে। টানা হরতাল আর অবরোধের কারণে সুন্দরবন ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সুন্দরবনের ট্যুর অপারেটররা। দুবলার চর, কচিখালি, কটকাসহ বিভিন্ন স্পটে বাতিল হচ্ছে একটির পর একটি ট্যুর। খুলনা অঞ্চল থেকে নিয়মিত অন্তত ৭০টি জাহাজ সুন্দরবনে যেত। এসব জাহাজে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে খুলনা অঞ্চলের অন্তত ৫০টিরও বেশি ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান।
ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবনের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘খুলনায় ৭০টিরও বেশি সুন্দরবনগামী জাহাজ আছে। এ জাহাজগুলোর পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। চলমান পরিস্থিতির কারণে সব ট্যুর বাতিল হচ্ছে। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এই সময়ে আমরা ট্যুরের জন্য অতিরিক্ত লোকও নিয়োগ করে রেখেছি। এদের বেতন যেমন দিতে হচ্ছে। তেমনি বিনিয়োগ করা টাকাও ফেরত পাচ্ছি না।’
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, ‘সারা বছর আমরা এ চার মাসের অপেক্ষায় থাকি। এ সময়টাতে হরতাল-অবরোধের কারণে আমরা চরম বিপদে পড়ে গেছি। এখন এ ব্যবসায় টিকে থাকাটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের।
সবশেষ ২০২২-২৩ অর্থ বছরে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার পর্যটক। যা থেকে রাজস্ব আয় হয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে সুন্দরবনে ৭৫ হাজার ৫৬০ জন দেশি এবং ৮৬৪ জন বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। ওই অর্থবছর সুন্দরবন বিভাগ পর্যটকদের কাছ থেকে ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার ৭০ টাকা রাজস্ব আয় করে।
-B










