নতুন বছরকে ঘিরে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র মুখরিত

ঢাকাঃ পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছর বরণে প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে। কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি ‘পাহাড় কন্যা’ খ্যাত বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রেও বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়। বুকিং হয়ে গেছে বেশিরভাগ হোটেল-মোটেলগুলো।
আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জাফর আলম জানান, নতুন সূর্যোদয়ের আলোয় মিশে গেল পুরোনো বছরের স্মৃতি। বুধবার (১ জানুয়ারি) ভোরে কুয়াশা ভেদ করে বছরের প্রথম সূর্যের আলোতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। নতুন বছর ২০২৫-কে স্বাগত জানাতে এসময় সৈকতে ভিড় করেন অসংখ্য পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
নতুন বছরের প্রত্যাশা শুধু আলোকিত একটি সকালেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্যটকদের মতে, এই বছর হবে সম্ভাবনাময় স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি যুগান্তকারী অধ্যায়। নতুন বছরের প্রথম দিন উপলক্ষে সৈকতে ছিল বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা। ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড এবং বিচকর্মিরা দিন শেষে রাতেও নিরাপত্তা জোরদার রেখেছেন সৈকতে।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নতুন বছরের নতুন সূর্য উপভোগ করতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ভিড় জমিয়েছেন হাজারো পর্যটক।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই সৈকতে পর্যটকদের আগমন ঘটতে থাকে। বুধবার (১ জানুয়ারি)ভোরে নতুন সূর্যোদয় দেখতে সৈকতের চর গঙ্গামতি, গঙ্গামতি, ঝাউবন ও জিরো পয়েন্টে জড়ো হন পর্যটকরা। তবে ঘন মেঘ ও ঘুন কুয়াশার কারণে সূর্যোদয় উপভোগ করতে না পারলেও সৈকতের তীরে আছড়ে পড়া ছোট ছোট ঢেউ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার টোয়াক’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসন রাজু বলেন, পুরানো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে আউটডোরে তেমন কোন অনুষ্ঠান না থাকলে কিছু কিছু ভিআইপি হোটেলের ইনডোরে নিজস্ব উদ্যোগ কনসার্টের আয়োজন করেছে। এছাড়া হোটেল হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ রুম বুকিংয়ে ৪০ শতাংশ ছাড় দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে পুলিশ।
আমাদের পার্বত্য জেলা প্রতিনিধিরা জানান, নতুন বছর বরণ উপলক্ষে পাহাড়ে ভিড় করছেন পর্যটকেরা। পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান, খাগড়াছড়িও রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা ছুটে এসেছেন পাহাড়, ঝিরি-ঝরনা আর সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির টানে।

বান্দরবানের নয়নাভিরাম বিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। শহরের হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসগুলো বুকিং হয়েছে আরও আগেই। অপরদিকে, খাগড়াছড়ির বেশির ভাগ হোটেল-কটেজ বুকিং হয়ে গেছে। ভিড় বেড়েছে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতেও। অতিথি বাড়ায় খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরা।খাগড়াছড়ির আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত ব্রিজ, রিছাং ঝরণাসহ অসংখ্য স্পট পর্যটক টানে সারা বছরই। তবে, নতুন বছর বরণ উপলক্ষে পর্যটক সমাগম এখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি জানান, সাগরের গর্জন আর নির্মল বাতাসের টানে পতেঙ্গাতে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক বর্ষবরণে। এ বিচের অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। চারদিকে সাগর পাড়জুড়েই মানুষের ঢল নেমেছিলো আজ ভোরে সূর্যোদয় দেখতে।
-B










