মেলকুম গিরিখাতে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা
দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মিরসরাইয়ের মেলকুম গিরিখাতে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। সোমবার (১৫ মে ) এ ঘোষণা দিয়ে মেলকুম ঢোকার পথে সচেতনতামূলক সতর্কীকরণ নোটিশ টাঙিয়ে দেয় চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ।
বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহানশাহ নওশাদ জানান, মেলকুম ঝরনাটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবস্থিত একটি দুর্গম পথ এবং বিপজ্জনক স্থান। এখানে গমন মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এটি কোনো পর্যটন এলাকা হিসাবে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সরকারিভাবে পর্যটনের জন্য ইজারাদার নিয়োগও করা হয়নি। তাই ওই ঝরনা দেখতে আসতে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
তাছাড়াও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে প্রবেশ না করার জন্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন বলেন, মেলকুম ট্রেইলের ব্যবস্থাপনায় কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে ইজারা না হওয়া পর্যন্ত ট্রেইলে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, অসচেতনতার কারণে মেলকুম থেকে বারবার পর্যটকদের হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। পুলিশ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে তাদের উদ্ধারও করছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদ হোসেন বলেন, মেলকুম গিরিখাতটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় দিনের আলো কমে গেলেই পর্যটকেরা দিক ভুল করেন। অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া এ স্থানে না যেতে পর্যটকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা রোধে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আমরা ব্যবস্থা নেব।
বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের সব কটি ঝরনা ও গিরিখাতের ইজারা পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এএইচ এন্টারপ্রাইজ। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক নাজমুল হাসান বলেন, ‘ঝরনা এলাকাগুলোয় সতর্কবার্তা সংবলিত ব্যানার ও সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। কিন্তু পর্যটকেরা কোনো নিয়ম মানেন না। আমরা সবাইকে বিকাল ৫টার মধ্যে ঝরনা এলাকা ত্যাগ করতে বললেও অনেকে সন্ধ্যা করে ফিরতে গিয়ে বিপদে পড়েন। এলাকাগুলোয় ট্যুরিস্ট পুলিশের ব্যবস্থা করা গেলে এ প্রবণতা কমে আসবে বলে তিনি মত দেন ।’
-B










