বিজয় দিবসে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

কক্সবাজারঃ বিজয় দিবসের ছুটিতে মুখরিত ছিলো দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ভ্রমণপিপাসুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য কক্সবাজারে নেমেছিলো পর্যটকদের ঢল। হোটেল-মোটেলের প্রায় ৮০ ভাগ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে যায়। বাড়তি ভিড়ের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয় বাড়তি সতর্কতা।
বছর শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। পরীক্ষা শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে ছুটি। পরিবার নিয়ে তাই অনেকেই বেড়াতে এসেছেন কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে। সারা বছরই কক্সবাজারে কমবেশি পর্যটক আনাগোনা থাকলেও বিশেষ দিবস ঘিরে ভিড় বাড়ে কয়েকগুণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানাবয়সী মানুষ সাগরের সৈকতে এসে একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তি কাটিয়ে খুঁজে নেন স্বস্তির পরশ।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমুদ্র নগরীতে ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিনই লক্ষাধিক পর্যটক আসছেন। বছরের মাঝামাঝিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায় ভাটা পড়লেও এবার ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আশা তাদের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে আসা পর্যটক হাবিব, সোহেল, তারেক জানান, পরীক্ষা শেষ করে সব বন্ধুবান্ধব মিলে কক্সবাজার এসেছেন। সৈকতের বালিয়াড়িতে তারা ভালো আনন্দ উপভোগ করেছেন। সৈকতের নীল জলরাশি তাদের বারবার টানে বলে জানান এ পর্যটকরা।
হোটেল দ্য কক্স টুডের এজিএম আবু তালেব শাহ বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত ভালো পর্যটক আছে। জানুয়ারিতেও ভালো বুকিং আছে। সব মিলে ব্যবসাটা এখন ভালো হচ্ছে।
কক্সবাজারের একজন হোটেল মালিক বলেন, ‘ডিসেম্বরের প্রতিদিন আশা করি এক থেকে দুই লাখ এবং বিশেষ বিশেষ দিনে তিন থেকে চার লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসবে বলে মনে করি। আমরা যে এতদিন ক্ষতির সম্মুখীন ছিলাম সেটা পূরণ করে আমরা লাভের মুখ দেখব বলে মনে করি। পর্যটন শিল্প ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটবে বলে মনে করি।’
লাইফগার্ড কর্মী মোহাম্মদ ভুট্টো বলেন, ‘সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় থাকি আমরা। আমাদের লাইফগার্ড ও ওয়াচটাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখি। আমাদের টহল টিম সবসময় টহলে থাকে। পানিতে কোনো সমস্যা হলে উদ্ধারকর্মী নিয়ে সেখানে দ্রুত চলে যাই।’
অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সৈকতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।
কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলোর ৭০থেকে ৮০ ভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের মুখপাত্র বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, পর্যটকরা যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সৈকত এলাকায় কয়েকটি টিম কাজ করছে।
-B










