পতেঙ্গা সৈকতপাড়ে পর্যটকের ঢল
বিজয় দিবসে (শুক্রবার)ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) সমুদ্র শহর পতেঙ্গা সৈকতে পর্যটকের ঢল নেমেছে।
কানায় কানায় পূর্ণ সাগর তীরে হাজার হাজার পর্যটক উচ্ছাসে মেতেছেন। কেউ সৈকতের বালিয়াড়িতে আনন্দ কোলাহলে মত্ত, কেউ সমুদ্র স্নানে মাতোয়ারা।
বিজয় দিবসে গতকাল শুক্রবার পতেঙ্গা সৈকতে ছিল পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে মহানগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে লোক পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে সৈকতে আসতে থাকে। বিকেলে পুরো এলাকা লোকে লোকরণ্য হয়ে পড়ে।
পতেঙ্গা সৈকতের পাশাপাশি নেভাল বিচ এবং সিটি আউটার রিং রোড এলাকায় পর্যটকের ঢল নামে। শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে সৈকত এলাকা। আদিগন্ত বিস্তৃত সাগর সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর সাথে সাগরে সারি সারি জাহাজ আর হরেক নৌযানের ছুটে চলার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমে। এখন চলছে পর্যটনের ভর মৌসুম। সরকারি ছুটি থাকায় গতকাল ও আজ পর্যটকের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এতে খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পতেঙ্গা সৈকতের মতো নগরীর অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভিড় জমে।
পর্যটকেরা বলেন, এ বিচের অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। চারদিকে সাগর পাড়জুড়েই মানুষের ঢল। ছুটির দিন ছাড়াও প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঘুরতে আসেন এখানে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এ বিচে থাকে ভ্রমণপিপাসুদের মিলন মেলা।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পতেঙ্গা বিচ। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা এ জনপদটি পর্যটকদের পছন্দের এক নান্দনিক স্পট। নয়নাভিরাম এ দৃশ্য দেখতেই ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।
রাজধানী ঢাকার মনিপুর এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, কক্সবাজার, কুয়াকাটার মতো পর্যটনের আরেক দিগন্ত পতেঙ্গা সি-বিচ। এখানে তৈরি করা হয়েছে নানা স্থাপনা। বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য বাহারি রংয়ের সিসি ব্লক রয়েছে। স্পিডবোট, ঘোড়া আর ছোটগাড়িতে রয়েছে ঘোরার ব্যবস্থা। ছবি তোলার জন্য রয়েছে ভাড়াটিয়া ক্যামেরাম্যান। পর্যটকদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রয়েছে ভ্রাম্যমাণ খাবার দোকানও।
স্থানীয়রা জানান, আগে এখানে এতো সৌন্দর্য ছিল না, টেকসই বাঁধ দিয়ে সাজানো হয়েছে পতেঙ্গা বিচকে। এখানে এলে যেকোনো মানুষের মন জুড়িয়ে যাবে। বিশেষ করে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখতে ছুটে আসেন মানুষ। এখানে অনেকটা আনন্দে সময় পার করেন ভ্রমণপিপাসুরা।
তারা আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা পতেঙ্গায় এখন ভাঙন নেই। টেকসই বাঁধ নির্মাণের কারণে পরিণত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সমুদ্র সৈকত। ভবিষ্যতে আরও আকর্ষণীয় সৈকত হিসেবে পূর্ণতা পাবে এ পতেঙ্গা সি-বিচ।
-B










