চিত্রায় নৌকা বাইচ দেখতে দর্শনার্থীর ঢল

নড়াইল: নড়াইলের চিত্রা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। নৌকা বাইচকে ঘিরে নড়াইলের সবুজ শ্যামল চিত্রা নদীর পাড় জুড়ে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় জমে।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও শিল্প সংস্কৃতিকে সার্বজনীন করার উদ্দেশ্যে বিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্ম-জয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার বিকেলে এ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: ভারত-ভুটানসহ প্রতিবেশীরা সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে চায়
নড়াইল জেলা প্রশাসন ও এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শনিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতু (নড়াইল ফেরিঘাট) থেকে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মো. হাসানুজ্জামান।
এ সময় নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোসা. সাদিরা খাতুন, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, এস এম সুলতান নৌকা বাইচ কমিটির আহবায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাশ্বতী শীলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর প্রথমেই নারীদের ৪টি নৌকার অংশগ্রহণে বাইচ শুরু হয়। এরপর পুরুষদের টালাই গ্রুপে ৪টি নৌকা ও কালাই গ্রুপে ৪টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। নড়াইল শহরের চিত্রা নদীর শেখ রাসেল ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে মাছিমদিয়ায় এস এম সুলতান সেতু পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: এক দশকে সুন্দরবনের আয়তন কমেছে প্রায় অর্ধেক
নারীদের একবার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় নারী গ্রুপে সদর উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামের গানের পাখি প্রথম, গুয়াখোলার চিত্রা কলি দ্বিতীয় ও গুয়াখোলা গ্রামের কুসুম কলি তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
পুরুষদের তিনবার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তিনবারের পয়েন্টের ভিত্তিত বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। পুুরুষদের কালাই গ্রুপে গোপালগঞ্জের মা শীতলা প্রথম, যশোরের কোতয়ালির আব্দুল কাদের দ্বিতীয় ও ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গার নিছার এক্সপ্রেস তৃতীয় হয়েছে।
এছাড়া টালাই গ্রুপে মাগুরা সদরের আকরাম খানের নৌকা প্রথম, খুলনার তেরখাদা উপজেলার দিদার মোল্যার ভাই ভাই জলপরি দ্বিতীয় ও গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার জয় মা কালি তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
বিজয়ী টালাই ও কালাই গ্রুপের প্রথম স্থান অধিকারী নৌকার মালিককে ৬০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী নৌকার মালিককে ৪০ হাজার টাকা ও তৃতীয় স্থান অধিকারি নৌকার মালিককে ২০ হাজার করে পুরস্কার দেয়া হয়।
নারীদের প্রথম স্থান অধিকারী নৌকাকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। নারীদের অন্যান্য বিজয়ীদের ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সকল নৌকার মালিককে সান্তনা পুরস্কার হিসেবেে ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়।
এদিকে নৌকাবাইচ বিকেলে শুরু হলেও দুপুরের আগ থেকেই বিভিন্ন বয়সী নানা শ্রেণি পেশার মানুষ নদীর দু’পাড়ে অবস্থান করেন। নদীর দুই পাড় ছাড়াও, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছাদসহ গাছে গাছে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। নদীতে নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোটে করে বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষ উপভোগ করেন নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। সারাদেশের মানুষ যখন রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তখন নড়াইলের মানুষ মেতেছিলেন নৌকা বাইচ উৎসবে।
-B










