বান্দরবানে ভোগান্তিতে পর্যটকরা

বান্দরবান : বান্দরবানে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শারদীয় উৎসবের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। টানা বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের শঙ্কাও।
গতকাল মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর)সূর্যের দেখাও মেলেনি জেলায়। ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর প্রভাবে সোমবার (২৩ অক্টোবর)থেকে জেলার সাতটি উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়। কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনও মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় কাদা মাটিতে পিচ্ছিল হয় অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো। এদিকে শারদীয় উৎসবকে ঘিরে ছুটিতে বান্দরবান জেলায় বেড়াতে আসা পর্যটকরাও বিপাকে পড়েছেন । বৃষ্টিতে দূরদূরান্তের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে যেতে পারেননি পর্যটকরা।
ভ্রমণকারী পর্যটক আপিল মাহমুদ বলেন, মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টিতে ভ্রমণের আনন্দটা অনেকটায় ম্লান হয়ে গেল। মেঘলা ও নীলাচল ছাড়া অন্য স্পটগুলোতে যাওয়া হয়নি বৃষ্টিতে। শৈল প্রপাতে গেলেও বৃষ্টিতে পিচ্ছিল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ঘুরে দেখতে পারিনি ঠিকমতো। তবে পাহাড়ের বৃষ্টিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরেছি।
বান্দরবান হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শারদীয় উৎসবের ছুটিতে পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছিল বান্দরবানে। সরব হয়ে উঠে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসাবাণিজ্য। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বেড়াতে আসা পর্যটকরা হোটেল বন্দি। আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোও ঠিকমতো ঘুরে বেড়াতে পারেনি।
মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার থেকে বান্দরবান জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। ভোররাতে ভারী বর্ষণ হয়েছিল। সকাল থেকে থেমে থেমে কখনও মুষলধারে, কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কাও রয়েছে। সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর প্রভাবে জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের।
-B










