এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটক বাড়বে

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলতি বছরে পর্যটক বাড়বে। কভিড মহামারীর প্রভাব, উচ্চমূল্যস্ফীতি ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এতে পর্যটকের সংখ্যা সহসাই কভিডপূর্ব স্তর ছাড়িয়ে যাবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় চলতি বছর এ অঞ্চলে পর্যটক সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি হওয়া উচিত। মহামারীপূর্ব স্তরে পৌঁছতে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত লাগতে পারে। পর্যটন খাতের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এ পূর্বাভাস দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বুকিংডটকমের ডাটা বলছে, ২০২৩ সাল শক্তিশালীভাবে পর্যটন খাতের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালের মে থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ডাটা প্রকাশ করেছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ভ্রমণ বুকিং হয়েছে জানুয়ারিতে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে আয়োজিত বুকিংডটকমের গোলটেবিল বৈঠকে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এশিয়ার ইকোনমিক কনসালটিং বিভাগের পরিচালক জেমস ল্যামবার্ট বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী আমরা কভিডের প্রভাব থেকে বের হয়ে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার করেছি। তবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পর্যটন খাত এখনো অনেক পিছিয়ে।’ বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি খাতটির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে মানুষ কতটা খরচ করতে ইচ্ছুক সেটা দেখার বিষয়। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এখনো চীনা পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি এখনো চলছে। এর অর্থ পারিবারিক খরচের বাজেট আরো সংকীর্ণ। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে পরিষেবা সংকট। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট সক্ষমতা ঘাটতি এবং হোটেল ও বিমানবন্দরের কর্মী সংখ্যা সংকট। তবে ২০২৩ সালে খাতটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধার প্রত্যাশা করছে। সাধারণত বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ১০ শতাংশ অবদান পর্যটন খাতের। থাইল্যান্ডের মতো আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যা প্রায় দ্বিগুণ।
জেমস ল্যামবার্ট বলেন, ‘মহামারীর আগে এসব অঞ্চলে পর্যটকদের আগমনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছিল চীনা পর্যটক। চলতি বছরে তারাও মাস্কমুক্ত বা করোনা সচেতনতাহীন দেশে ভ্রমণ করতে কিছুটা দ্বিধা বোধ করতে পারে।’
আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও কোরিয়া অংশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিত সুকুমারনের মতে, ‘গত বছরের শেষের দিকে চীন পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে। চীনা বাজার উন্মুক্ত হওয়া অত্যন্ত আনন্দের খবর। তবে পর্যটকের বড় ঢল এখনো শুরু হয়নি। যদিও ইন্দোনেশিয়ার বালি ও ভিয়েতনামের কিছু অংশে পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ স্থানগুলো শিগগিরই আরো বেশিসংখ্যক পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চলতি বছর আতিথেয়তা খাতসংশ্লিষ্টদের উচিত অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন করা। এছাড়া পর্যটকদের চাহিদা ও পছন্দের প্রতি আরো বেশি মনোযোগ দেয়া।’
-B










