কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে ঢল নেমেছে পর্যটকের।
বিনোদনপ্রেমীরা উৎসবে মেতেছেন এখানকার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে। সৈকতের নোনাজলে নেমে আত্নহারা অনেকে। এতে আয় বেড়েছে সৈকতের হকারদের। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।
পরিবারের প্রিয় মানুষটির সাথে বালিয়াড়িতে ঘোরাঘুড়ি, মেরিন ড্রাইভে ভ্রমণ, পাথুরে সৈকতে ঘুরে বেড়ানোসহ আনন্দমুখর সময় পার করছে সবাই।
সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট, লাবণী ও কলাতলী বীচ পয়েন্টে হাজারো পর্যটকের মাঝে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই।
সৈকতের লাবণী পয়েন্টের বালুচরে খেলা করা পর্যটক মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ছুটিতে শুধুমাত্র কক্সবাজার আসলেই ভালো লাগে। তাই স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার ছুটে আসা। এতটা ভালো লাগে, সত্যিই অনেক আনন্দের। তবে এবার বেশি ভালো লাগছে যে, সাগরের এরকম বড় বড় ঢেউ আগে কোনোদিন কক্সবাজারে দেখিনি। এখন বড় বড় ঢেউ দেখে সত্যিই অবাক হচ্ছি।
শনিবার (২০ আগস্ট) সকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায়, জেড স্কীতে চড়ে নীল জলরাশি উপভোগে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। আর সৈকতের প্রবেশদ্বারে বালিয়াড়িতে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরছেন অনেক পর্যটক।
অনেকে ঘোড়ার পিঠে উঠে ছবি তুলেই আনন্দ খুজেঁ নিচ্ছেন। শুধু ওয়াটার বাইক বা ঘোড়ায় চড়া নয়, সাগরের নোনাজলে গা ভাসাতে যেন অপার আনন্দ সবার। কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে উত্তাল আনন্দে গোসলে মেতেছেন। আর কেউ এই আনন্দ উৎসবের দৃশ্য ধরে রাখতে তুলছেন ছবি।
রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি থেকে এসেছেন আনিস কামাল দম্পতি। চার বছরের সন্তান পলাশকে নিয়ে সাগরের পানিতে জেড স্কী নিয়ে ঘুরে এলেন। জেড স্কী থেকে নেমে বললেন, ‘সাগরের নীল জলরাশিতে ভ্রমণ অন্য রকম এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। কয়েক মিনিটে ভ্রমণ মনে হয়েছে নীল জলরাশির উপর দিয়ে হাঁটছি। টানা ছুটিতে কক্সবাজার এসে সত্যিই আনন্দ মেতে আছি।’
ঘোড়ার পিঠে উঠে ছবি তুলছেন মোহাম্মদপুরের ফেরদৌস জামান। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার আসলেই ঘোড়ার পিঠে উঠে ঘুরে বেড়াই। এটা অনেক আনন্দদায়ক। এবার ঘোড়াটা অনেক বড় ছিল এবং দেখতেও অনেক সুন্দর। তাই অনেক ছবি তুললাম।’
পর্যটকের উপস্থিতিতে ব্যস্ততা বেড়েছে সৈকতের ঘোড়াওয়ালা, জেড স্কী চালক ও ফটোগ্রাফারদের। তারা বলছেন, টানা ছুটিতে পর্যটক বেশি আসায় আয়ও বেড়েছে তাদের।
কলাতলী সৈকতের ঘোড়াওয়ালা কাদের বলেন, ‘পর্যটকরা আর আগের মতো ঘোড়ায় চড়েন না। তাই আয় রোজগারও কম। কিন্তু এখন টানা ছুটিতে অনেক পর্যটক এসেছে। অনেকেই ঘোড়ার পিঠে উঠে ঘুরছেন, ছবি তুলছেন।
জেড স্কী চালক হাফিজ বলেন, ‘গত ক'দিন ভালোই আয় হয়েছে'।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানা তিনি দিনের ছুটিতে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন এক লাখের মত মানুষ।
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত সী সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মী আব্দুল মান্নান বলেন, টানা ৩ দিনের ছুটি থাকাতে কক্সবাজার প্রচুর পর্যটক এসেছে। পর্যটকরা সৈকতে এসেই নোনাজলে সমুদ্রস্নানে নেমে পড়ে। কিন্তু আমাদের লাইফ গার্ড কর্মীর স্বল্পতা রয়েছে। তার মাঝেও চেষ্টা করছি, কোনো পয়েন্টেই যাতেই পর্যটকরা সমুদ্রস্নানে নেমে বিপদে না পড়ে। আবহাওয়া পরিস্থিতি তেমন ভালো না, যার কারণে প্রতিটি পয়েন্টে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। তবে পর্যটকরা অনেকেই নির্দেশনা মানছেন না। তারপরও পর্যটকদের সতর্ক করার পাশাপাশি সমুদ্রস্নানে নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে টহল জোরদার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। একই সঙ্গে মাইকিংও চলছে। মাইকিংয়ে নানা নির্দেশনাও দেয়া হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা ছুটিতে প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে। তাই সৈকতে, হোটেল মোটেল জোন ও পর্যটন স্পটগুলোতে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করি, টানা ছুটিতে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারবেন।
-B










