তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

তিন দিনের টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। শহরের ৪৫০টির বেশি হোটেল, মোটেল ও কটেজের সব কক্ষই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।
আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ে সাগর তীরে মেতেছেন ভ্রমন পিপাসুরা। আর তাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের বিচ কর্মীরা।
পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন কক্সবাজারের প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, পাথুরে সৈকত ইনানী, হিমছড়ি ও রামু বৌদ্ধ মন্দির, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরেও।
পর্যটক দম্পতি জসীম উদ্দীন ও নাসরিন বলেন, টানা কয়েক দিনের ছুটিতে কক্সবাজার ছুটে এসেছি। সমুদ্র দেখে অনেক ভাল লাগছে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন ওয়াহিদ । তার পরিকল্পনা ছিল পরিবার নিয়ে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন যাবেন। তবে এবার কক্সবাজার থেকে শুধু একটা জাহাজ ছিল। জাহাজের টিকিট না পেয়ে সেন্ট মার্টিন যেতে না পেরে মন খারাপ তার।
জানা গেছে, টানা কয়েক দিনের ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস মালিকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বেশির ভাগ হোটেল ও গেস্টহাউস বুকিং হয়েছিল। লাখের অধিক পর্যটক বর্তমানে অবস্থান করছে। এই ছুটিতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা ।
হোটেল মালিকরা জানান, হোটেল-মোটেলে যে পরিমাণ ধারণক্ষমতা তার চেয়েও লোকসমাগম বেশি হয়েছে।
সৈকতে উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা ‘ইয়াছির লাইফ গার্ড স্টেশনের’পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শুক্রবার সৈকতের চার-পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় সমবেত হয়েছিলেন লাখ লাখ পর্যটক। বিপুলসংখ্যক পর্যটক সামাল দিতে ২০ জন উদ্ধারকর্মীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
কক্সবাজার কটেজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমেদ বলেন, সৈকতের আশপাশের ২২০টি কটেজের কোনোটিই খালি নেই। একই তথ্য দিয়েছেন ‘কক্সবাজার হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের’সহসভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেনও।
হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতি নেতা ওমর সুলতান বলেন, শহরের ৪৫৩টি হোটেল মোটেল কটেজে দৈনিক থাকতে পারেন ৯৭ হাজারের মতো পর্যটক। এর অতিরিক্ত পর্যটক এলে হোটেলে গাদাগাদি করে রাখতে হয়। এরপরও অনেকে কক্ষ ভাড়া না পেয়ে বিপদে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশের টিম। মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটন স্পটগুলো। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে সৈকতে।
কলাতলীর মোহাম্মদীয়া গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হোটেল-মোটেলে যে পরিমাণ ধারণ ক্ষমতা, তার চেয়ে লোকসমাগম অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে। রুম বুকিং করে যারা এসেছেন, তারা ছাড়া বাকিরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘কক্সবাজারে প্রচুর লোকজন এসেছে। যে কোনো ধরনের হয়রানি রোধে জেলা প্রশাসনের দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত হোটেল-মোটেল জোনে টহলে রয়েছে।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি পয়েন্টে আমাদের তথ্য কেন্দ্র রয়েছে। পর্যটকরা যদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্র গোসল করতে নামা পর্যটকদের জন্য আমাদের বিচ কর্মী ও সী লাইফ গার্ড কর্মীরা কাজ করছে। পর্যটকদের হয়রানি রোধে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় সবসময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকদের হয়রানি রোধে, পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে এবং পর্যটক বেশেও পুলিশের নারী সদস্যরা সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’
অন্যদিকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ। নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা, তথ্যসেবা, পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ নানা সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ।কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে আলাদা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। আপত্তিকর ঘটনা এড়াতে তারা সবসময় সজাগ রয়েছে।
B










