বেনাপোল বন্দরে ভ্রমণকর ১ হাজার টাকা কার্যকর

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচল করা পাসপোর্টধারী যাত্রীদের গতকাল থেকে ভ্রমণকর বাবদ ১ হাজার টাকা করে নিচ্ছে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক বুথ। একই সঙ্গে তাদের আরো ৫২ টাকা পোর্ট ফি দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন যাত্রীরা।
আগে ভ্রমণকর বাবদ ৫০০ টাকা এবং ৫২ টাকা পোর্ট ফি নেয়া হতো। গতকাল সকাল থেকে ভ্রমণকরবাবদ ১০০০ টাকা আদায় করা হয়।
বন্দর সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন। বাজেটে তিনি বিদেশে ভ্রমণকর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব পেশ করেন। গতকাল ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে তা কার্যকর করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশী ভারতে চিকিৎসা, লেখাপড়া, ভ্রমণ, ব্যবসাসংক্রান্ত ও স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যান। ভারতীয় নাগরিকরাও একইভাবে বাংলাদেশে আসেন।
ভারতীয় যাত্রী সমর কুন্ডু বলেন, ‘গত ২০ জুন বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে এসেছিলাম। গতকাল ভারতে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ভ্রমণকর জমা দিতে গেলে ১০০০ টাকা ভ্রমণকর পরিশোধ করতে হয়েছে। সঙ্গে আরো পোর্ট ফি ৫২ টাকা নিয়েছে। মোট ১ হাজার ৫২ টাকা দিতে হলো। এক মাস আগে যখন এসেছিলাম তখন নিয়েছিল ৫৫২ টাকা। এ সময় ভারত ভ্রমণে অধিকাংশ যাত্রী বর্ধিত ভ্রমণকর প্রত্যাহারের দাবি জানান।’
ঢাকার এক যাত্রী বলেন, ‘পাসপোর্টে ভারত ও বাংলাদেশ চলাচলে বর্ধিত ভ্রমণকর প্রত্যাহার দরকার। তাহলে দুই দেশের মধ্যে আরো মানুষের চলাচল বাড়বে। ভ্রমণকর বাড়ানো ঠিক হয়নি।’
বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান হাবীব বলেন, ‘ভ্রমণ করের বিষয়ে যাত্রীরা অফিসে এসে জানতে চাইলে বলেছি এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এটা সরকারের বিষয়। এবার বাজেটে ভ্রমণকর ১০০০ টাকা করা হয়েছে। পরে যাত্রীরা ১০০০ টাকা করে ভ্রমণকর দিয়ে যাতায়াত করছেন।’
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্রমণকর ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গতকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে কার্যকর করা হয়েছে। আগে ৫০০ টাকা ভ্রমণকর পরিশোধ করে যাত্রীরা আসা-যাওয়া করতে পারতেন।’
-B










