তুরস্কের গর্ব ঐতিহাসিক ও পর্যটন স্থাপনা এখন ধ্বংসস্তূপ
বিধ্বংসী ভূমিকম্প তুরস্কের হাজার হাজার প্রাণ কেড়েই ক্ষান্ত হয়নি। দেশটির ১০টি প্রদেশের ৭৫ শতাংশ স্থাপনা চুরমার করে দিয়েছে। বাকিগুলোতেও ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
কোনো কোনোটা হেলে পড়েছে। তুরস্কের গর্ব ঐতিহাসিক প্রাচীন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। ২ হাজারের বছর পুরোনো কেল্লা, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুধু হাতায় প্রদেশেই নয়, অন্য ৯টি প্রদেশেও ঐতিহাসিক অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় থাকত; এখন জনমানবশূন্য। স্থাপনাগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
ঐতিহাসিক স্থাপনগুলো নিয়ে মানুষের দুঃখ ও আফসোসের শেষ নেই; স্থানীয়দের শোকাহত করে তুলেছে। কারণ এসব স্থাপনা ঘিরে তুরস্কের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, এ স্থাপনাগুলো তাদের গর্বের বিষয় ছিল।
তুরস্কের প্রতি কিলোমিটারে কোথাও চারটি, কোথাও সাতটি মসজিদ। প্রাচীন ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এসব মসজিদ নির্মিত। ভূমিকম্পে বেশিরভাগ মসজিদ ভেঙে যাওয়ায় মানুষ খোলা আকাশে নিচে নামাজ পড়ছেন। হাতায় প্রদেশের প্রাণকেন্দ্র আনতাকিয়া উপশহরের ঐতিহাসিক প্রাচীন মসজিদ হাবিব-ই নাজ্জার ভেঙে গেছে।
মসজিদটিতে সারা বছর পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকত। আনাতোলিয়ার প্রথম মসজিদ হিসাবে পরিচিত স্থাপনাটি প্রায় ১৪০০ বছর আগে নির্মিত। সব প্রদেশেই ঐতিহাসিক অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাহাড় ঘেরা প্রতিটি প্রদেশের অনেক পাহাড়ও ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তবে হাতায় ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সমতল ভূমি থেকে পাহাড়ি এলাকায় শুধু ধ্বংসস্তূপ।
গাজি আনতেপে দেখা যায়, শহরের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ২ হাজার বছরের পুরোনো কেল্লাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং দক্ষিণ অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। কেল্লা প্রাচীর ভেঙে গেছে। শহরের মধ্যভাগে অবস্থিত কেল্লাটি ২০০-৩০০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত। হিটাইট সাম্রাজ্যের সময় কেল্লাটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হতো।
এ কেল্লার নাম তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। গাজি আনতেপ ডিফেন্স অ্যান্ড হিরোইজম প্যানোরামিক মিউজিয়াম হিসাবেও এটি ব্যবহৃত হতো। এখানে সব সময় পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকত। এটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ৮০ বছরের ওসমান গোকওউলু জানান, ভূমিকম্পে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। হাতায় প্রদেশের হাবিব-ই-নাজ্জার মসজিদ, গাজি আনতেপ কেল্লাসহ শত শত ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো আমাদের শক্তি ছিল, প্রেরণা ছিল, প্রেরণার উৎস ছিল। গর্ব করার বিষয় ছিল।
-B










