৬০০ উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ দেবে টার্কিশ এয়ারলাইনস

টার্কিশ এয়ারলাইনস (টিএইচওয়াই) আগামী জুনে নতুন ৬০০ ইউনিট নতুন উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিতে যাচ্ছে। ১০ বছরের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ টার্কিশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহমেত বোলাত।
টার্কিশ এয়ারলাইনসের ক্রয়াদেশ সম্পন্ন হলে কোনো উড়োজাহাজ সংস্থার জন্য এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রয়াদেশ হবে। গত ডিসেম্বরে এয়ার ইন্ডিয়ার ৪৭০ ইউনিট এয়ারবাস ও বোয়িং উড়োজাহাজ রেকর্ড ক্রয়াদেশকেও ছাড়িয়ে যাবে এটি। এজন্য টার্কিশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যানের বিবৃতিতে খাতসংশ্লিষ্ট ও শিল্প বিশ্লেষকরা কিছুটা অবাক হয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) নেতাদের উদ্যোগে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় এক ইভেন্টে অংশ নেবেন এয়ারলাইনসটির চেয়ারম্যান আহমেত বোলাত। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ক্রয়াদেশটিতে থাকবে ৪০০ ইউনিট সংকীর্ণ-আকৃতির (ন্যারো-বডি) উড়োজাহাজ এবং ২০০ ইউনিট প্রশস্ত-আকৃতির (ওয়াইড-বডি) উড়োজাহাজ। এর মাধ্যমে ২০৩৩ সালের মধ্যে টার্কিশ এয়ারলাইনসের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৮১০ ইউনিটে।’
টার্কিশ এয়ারলাইনসের ‘ইনফ্লাইট ডাইনিং কনসেপ্ট’ উন্মোচন করতে গিয়ে চেয়ারম্যান আহমেত বোলাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইএটিএ’-এর সম্মেলনের সময় আমরা ক্রয়াদেশের বিষয়টি ঘোষণা করব। বড় নির্মাতাদের একজনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা প্রায় ৬০০ ইউনিট উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ দিতে যাচ্ছি। ‘আইএটিএ’-এর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনটি এ খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪-৬ জুন ইস্তানবুলে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনটিতে অংশ নেবে প্রায় ২৮০ এয়ারলাইনস কোম্পানি।
আহমেত বোলাত বলেন, ‘টার্কিশ এয়ারলাইনস বোয়িংকে ক্রয়াদেশ দেয়ার জন্য একটি চুক্তির কাছাকাছি ছিল। কিন্তু পরে সেটা বিস্তারিত জানা যায়নি। বোয়িংও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।’
প্রতিবেদন বলছে, টার্কিশ এয়ারলাইনস আগামী জুনে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রদর্শনীতে অন্য নির্মাতাদেরও নতুন উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিতে পারে। এক্ষেত্রে আহমেত বোলাত বোয়িংয়ের ইউরোপীয় প্রতিযোগী এয়ারবাসের নামও উল্লেখ করেন। যদিও এয়ারবাস কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে আগামী ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্যারিস এয়ারশো। এর আগে ১৪ মে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। টার্কিশ এয়ারলাইনস চেয়ারম্যান আশা করেন, সংস্থার শীর্ষ ব্যবস্থাপকরা নির্বাচনের পরেও নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এয়ারলাইনসটির আগামী ১০ বছরব্যাপী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবেন তারা।
কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী সময়ে এবার খাতটির পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে। এজন্য এয়ারলাইনস সংস্থাগুলো নিজেদের বহরে উড়োজাহাজ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে ইস্তানবুল হাবে ট্রাফিক আকর্ষণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান আরো সুসংহত করতে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে টার্কিশ এয়ারলাইনসের।
আয়ারল্যান্ডের রিয়ানএয়ার সম্প্রতি ৩০০ ইউনিট সংকীর্ণ-আকৃতির (ন্যারো-বডি) জেটের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এছাড়া গত মার্চে ভারতের ইন্ডিগো প্রায় ৫০০ ইউনিট জেট কেনার জন্য আলোচনা করছে।
উল্লেখ্য, টার্কিশ এয়ারলাইনস গত মাসে ১০ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা ও বাণিজ্য প্রসারণের ঘোষণা করে। যার মধ্যে ২০৩৩ সালের মধ্যে ১৭ কোটি যাত্রী পরিচালনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় যা ৮ কোটি ৫০ লাখের অধিক।
-B










