ককপিটে কফি খেয়ে বিপাকে দুই ভারতীয় পাইলট

বেসরকারি ভারতীয় এয়ারলাইনস সংস্থা ‘স্পাইসজেট’ উড়োজাহাজের ককপিটে কফি ও মিষ্টি রেখে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই পাইলটের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের জেরে তারা আপাতত উড়োজাহাজ ওড়াতে পারবেন না। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ‘স্পাইসজেট’র কন্ট্রোল প্যানেলে রাখা একটি কফির কাপ ও মিষ্টির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ছবিটি যখন তোলা হয়েছিল তখনউড়োজাহাজটি ৩৭ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল।
ছবিটি সবার মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ফলে ভারতের এভিয়েশন রেগুলেটর এই এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে একটি সতর্কতা জারি করে। গতকাল বুধবার স্পাইসজেটের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পাইলট দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তারা বলেছেন, ছিবিটি নেওয়া হয়েছে যখন তারা ডিউটি করছিলেন না।’
স্পইসজেট আরো জানায়, ‘উভয় পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তত দিন ওই দুই পাইলটকে উড়োজাহাজ ওড়ানোর জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ককপিটের ভেতরে খাবার খাওয়ার নিয়ম নেই এমনিতেই। সেই নিয়ম লঙ্ঘন করার ক্ষেত্রে স্পাইসজেটের একটি কঠোর নীতি রয়েছে। সব ফ্লাইট ক্রু সদস্যকে সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। তদন্ত শেষে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি ৮ মার্চ হিন্দু উৎসব হোলির দিন ঘটেছিল। উড়োজাহাজটি দিল্লি থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গুয়াহাটির দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথেই এমনটা ঘটেছিল। কফি যদি উড়োজাহাজের কন্ট্রোল প্যানেলে পড়ে যেত, তাহলে যান্ত্রিক গোলযোগের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারত। এ ছাড়া মাঝ আকাশে উড়োজাহাজে বিপত্তিও দেখা দিতে পারত। এই ধরনের ‘অপেশাদার আচরণের’ কারণে দুই পাইলটের বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, একের পর এক বিপত্তির জেরে এর আগে স্পাইসজেটের হাতে নোটিশ ধরিয়েছিল ডিজিসিএ। স্পাইসজেটের সূচি অনুযায়ী ৫০ শতাংশ বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল গত বছর। এই নোটিশ পাঠানোর আগের ১৭ দিনে আটবার বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছিল স্পাইসজেটের। পরে সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয় গত সেপ্টেম্বরে।
-B










