গোল্ডেন ভিসা নীতি আরো সহজ করেছে ইউএই

দুবাই: সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
মূলত জ্বালানি তেলের একক নির্ভরতা কাটিয়ে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচির নগদ ফল পাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। বিশেষ করে দুবাইয়ের আবাসন খাত এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মনোযোগের কেন্দ্রে। পাশাপাশি অন্যান্য শহরে বাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনছেন বিশ্বের নানা দেশের সম্পদশালীরা। আবাসন খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ আরো বাড়াতে এবার গোল্ডেন ভিসা নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ইউএই সরকার।
আগের নীতি অনুসারে, আরব আমিরাতের ১০ বছর মেয়াদি গোল্ডেন ভিসা পেতে ১০ লাখ আমিরাতি দিরহাম বা ২ লাখ ৭২ হাজার ডলার ডাউন পেমেন্ট দিতে হতো। তবে সে শর্ত তুলে দিচ্ছে দেশটি। আমিরাত কর্তৃপক্ষের আশা, গোল্ডেন ভিসার নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নতুন ও বৈচিত্র্যময় খাতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে।
আবাসন সংস্থা স্প্রিংফিল্ড প্রোপার্টিজের মতে, ইউএই গোল্ডেন ভিসার নীতিতে পরিবর্তন দুবাইয়ের আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্র তৈরি করবে।
ইউএইর শূন্যকর নীতি ও ভিসা প্রাপ্তির সহজলভ্যতা আগেই থেকে সম্পদশালী বিদেশীদের আকর্ষণ করে আসছিল। করস্বর্গ হিসেবে পরিচিতি পায় দেশটির জাঁকজমকপূর্ণ শহরগুলো। বিশেষ করে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের নতুন রাজধানী তকমা পাওয়া দুবাইয়ের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এবারের নতুন নীতি মূলত শহরটির আবাসন খাতকে সুবিধা দেবে। কারণ ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ ও সম্পত্তির অবস্থা (অফ-প্ল্যান, সম্পূর্ণ, বন্ধক বা বন্ধক রাখা) নির্বিশেষে, বিনিয়োগকারীরা এখন ২০ লাখ আমিরাতি দিরহাম বা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তির মালিক হয়ে গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্য ন্যূনতম ডাউন পেমেন্ট বাদ দেয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্প্রিংফিল্ড প্রপার্টিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক সৈয়দ বলেন, ‘নতুন নীতি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের দরজা খুলে দেবে। এটি শুধু আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরই উপকৃত করবে না, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকেও শক্তিশালী করবে।’
দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশটির আবাসন বাজার খুব দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে। স্প্রিংফিল্ড প্রোপার্টিজের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে খাতটিতে ১৬ লাখের বেশি লেনদেন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।
২০২৩ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০টি চুক্তিসহ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ৪০০ কোটি আমিরাতি দিরহাম বা ১৭ হাজার ২৬০ কোটি ডলার। এতে মূল্য ও পরিমাণ যথাক্রমে ২০ ও ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
ফারুক সৈয়দ বলেন, ‘আমরা আশা করি, দারুণ এ পদক্ষেপ ইউএইজুড়ে আবাসন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়াবে। পাশাপাশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির চাহিদাও বাড়িয়ে দেবে।’
সরকারি তথ্যমতে, গত বছর দুবাইয়ের আবাসন খাতে বিনিয়োগের প্রবাহ ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। যার মধ্যে ৪২ শতাংশ নতুন বিনিয়োগকারী আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমিরাতের নতুন ভিসা নীতি ব্যবসাবান্ধব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ সিদ্ধান্ত আবাসন খাতসহ দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।
২০১৯ সালে গোল্ডেন ভিসা চালু করে ইউএই। এরপর থেকে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী, পেশাদার, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের ১০ বছর মেয়াদি এ ভিসা দিয়ে আসছে দেশটি।
দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব রেসিডেন্সি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে আরব আমিরাতে গোল্ডেন ভিসা ইস্যু ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সম্পত্তি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, পেশাদার ও অন্যান্য আবেদনকারীকে দেড় লাখেরও বেশি গোল্ডেন ভিসা ইস্যু করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এবার বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে আবাসন খাতে অর্থলগ্নিকারীদের ডাউন পেমেন্টে শর্ত বাতিল করছে। ফলে গোল্ডেন ভিসার পরিধি আরো বাড়বে।
-B










