বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে হতাশার কথা জানাল আঙ্কটাড
এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ধারা দেখা গেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের সংকটের কারণে বাণিজ্যে মন্দা ভাব চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকের মতো চলতি বছরও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতির থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাণিজ্য পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও বছরের দ্বিতীয়ার্ধের অবস্থা ইতিবাচক হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। আঙ্কটাড বলছে, এ বছরের প্রথম তিন মাসে বৈশ্বিক বাণিজ্য ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।
২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আঙ্কটাড বলছে, অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জিরো কভিড নীতিমালা প্রত্যাহার ও মূল্যস্ফীতির চাপের বিষয়ের মতো নতুন উদ্বেগের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধীরগতি ছিল গত বছর। তবে এখন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো রয়েছে। যদিও ২০২৩ সালজুড়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে মন্দা ভাব থাকবে। সেই সঙ্গে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকলে বাণিজ্য প্রবৃদ্ধির বিষয়ে আঙ্কটাডের এই পূর্বাভাস চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নামতে পারে। ২০২৪ সালে তা দাঁড়াতে পারে ৪ দশমিক ৩।
এর আগে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অন্য দেশগুলোর আমদানি ব্যয় ও খাদ্যের দামও বৃদ্ধি পায়। তবে গত সেপ্টেম্বর থেকে ডলারের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে। ডলারের দাম কমে যাওয়ায় তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আঙ্কটাডের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ধরনের সংকট, চলমান মূল্যস্ফীতি ও ঋণের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তা ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে সুদের হার আগের চেয়ে ব্যাপক বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দফায় দফায় বৃদ্ধি করেছে।
জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের দাম মহামারিপূর্ব সময়ের চেয়ে বেশি থাকবে। বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি এবং ধাতুর দাম। উচ্চসুদের হারের কারণে বৈশ্বিক মোট ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এসব কারণে অনেক দেশের অর্থনীতি সামষ্টিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
-B










