বিমাননির্ধারিত হজ ফ্লাইটের ভাড়া মানতে চায় না হাব

খুব শিগগির ঘোষণা করা হবে হজ প্যাকেজ। এ বছর সর্বমোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে পারবেন। এবারের হজ ফ্লাইটের ভাড়া বাড়তে পারে। ডলারের কারণে এমনটি হওয়ার আভাস মিলেছে। হজ ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণে কারিগরি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন হজ এজেন্সির মালিকরা।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) মনে করে, রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একটি উড়োজাহাজ সংস্থা। এটি এককভাবে অতিরিক্ত মুনাফা ঠিক করে ভাড়ার প্রস্তাব করে। তাই বিমানের নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী হজ প্যাকেজ মানতে রাজি নন এজেন্সি মালিকরা। তাদের দাবি, বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ভাড়া নির্ধারণে স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে।
সংগঠনটির মতে, এভিয়েশন খাতের বিষয়ে যারা বোঝেন তাদের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করতে পারে সরকার। এই কমিটি সকল ধরনের খরচ, সকল কিছু বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করবে। বিমান এককভাবে কোনো প্রস্তাব করলে সেটির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ওই কমিটি প্রস্তাবটির ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ হবে।
হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, ভাড়া নির্ধারণে বুয়েটসহ এভিয়েশন খাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করতে হবে। কেবল বিমানের প্রস্তাবিত হারে ভাড়া নির্ধারিত হতে পারে না।
জানা গেছে, এবার নিজস্ব উড়োজাহাজের মাধ্যমে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। কোনো উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া হবে না।
ধারণা করা হচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবার ব্যয়ও বাড়বে হজযাত্রায়। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৫০ শতাংশ ও সৌদি এয়ারলাইনস ৫০ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। গত বছর হজে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান ৫৬ হাজার ৯৫২ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ ১-এর খরচ হয়েছিল জনপ্রতি ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ ২-এ খরচ হয় জনপ্রতি ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। গত ৯ জানুয়ারি সৌদি আরব-বাংলাদেশ হজ চুক্তি হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, হজ ফ্লাইট নিয়ে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সব কিছু বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টরা ভাড়া নির্ধারণ করবে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই আমরা হজের খরচ বাড়াতে চাই না। যে ব্যয় গত বছরে হয়েছিল, সেটাই রাখার চিন্তা করছি। তারপরও কিন্তু খরচ বাড়বে। সৌদি রিয়ালের দাম গত বছর ছিল ২১-২২ টাকা, আর এখন প্রতি রিয়ালের দাম বাংলাদেশি ৩০ টাকা। আমরা দাম বাড়ানো ছাড়াই এমনিতেই ব্যয় বেড়ে গেল এই কারণে। তারপরও আমরা চেষ্টা করব, যে করেই হোক ব্যয় কম রাখার জন্য।’
জানা গেছে, এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৮৯ হাজার ৩৮ জন হজযাত্রী জেদ্দা বিমানবন্দর হয়ে প্রবেশ ও প্রস্থান করবেন এবং ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ৩৮ হাজার ১৬০ জন হজযাত্রী মদিনা বিমানবন্দর হয়ে প্রবেশ ও প্রস্থান করবেন। হজ যাত্রার খরচের বড় একটি অংশ যায় ফ্লাইটের টিকিটের জন্য। হজ এজেন্সি মালিকেরা বলছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সারা বছরের লোকসানের ধকল কাটিয়ে ওঠে হজ ফ্লাইটের মুনাফা থেকে। হজ ফ্লাইট থেকে বিমান ৮০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফা করে। বিমান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১০ থেকে ২০ কোটি টাকা মুনাফা রেখে ভাড়া প্রস্তাব করলে হজযাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপ কমবে। প্রতিবছর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি, হজে ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটসহ নানা কারণে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করে বিমান কর্তৃপক্ষ। ওই প্রস্তাবিত ভাড়ার আলোকেই ভাড়া নির্ধারণ হয়, তারপর হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।
হজ এজেন্সি মালিকরা বলছেন, সরকার হজ প্যাকেজে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করে ডেডিকেটেড ফ্লাইটের জন্য। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো একই ভাড়ায় রেগুলার ফ্লাইটেও হজযাত্রী নেয়। কখনো কখনো লিটারে ১০ থেকে ২০ সেন্ট জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে; কিন্তু বিমান এ অজুহাত দেখিয়ে জনপ্রতি ভাড়া ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ফেলে। তাই হজ ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণে কারিগরি কমিটি করা জরুরি। সেখানে অংশীজন হিসেবে হাবের প্রতিনিধিও রাখা যেতে পারে।
-B










