উড্ডয়ন-অবতরণের সময় উড়োজাহাজের জানালার পর্দা তোলা থাকে কেন

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে তারা হয়তো খেয়াল করেছেন উড়োজাহাজ উড্ডয়ন কিংবা অবতরণের সময় জানালার পর্দা বা শেড তুলে রাখা হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, কেন এই কাজটি করা হয়? কেউবা ভাবেন যাত্রীদের সতর্ক করতেই হয়তো জানালা পর্দা তুলে রাখা হয়।
উড্ডয়ন আর অবতরণের সময় উড়োজাহাজের জানালার পর্দা খোলার বিষয়টি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি।
আকাশ ভ্রমণবিষয়ক নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্মরণ উদয় কুমার কিউরা জানান, গোলযোগপূর্ণ মুহূর্তে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য এবং উড়োজাহাজ খালি করার জন্য মাত্র ৯০ সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়। এই সময়ের প্রতিটি সেকেন্ডই মূল্যবান। এই অল্প সময়ের মধ্যেই যেন যাত্রীদের প্রস্তুত করা যায় এবং উদ্ধারকারীরা যেন জানালা দিয়ে উড়োজাহাজের ভেতরের অবস্থান দেখতে পারেন, সেজন্যই উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় উড়োজাহাজের জানালার পর্দা খোলা রাখা হয়।
এছাড়া বাইরে কোনো গোলযোগ হলে তা অনেক সময় কৌতূহলি যাত্রীদের চোখে পড়ে। এমনটাও হয়েছে যে তারা স্টাফদের সমস্যার বিষয়ে অবহিত করেছেন।
এই দুই সময়ে জানালার পর্দা তুলে রাখার আরেকটি কারণ হলো স্টাফরা যেন বাইরের পরিস্থিতি দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের দরজা খোলার চেষ্টা
উড্ডয়ন বিশেষজ্ঞ ডেভিড রবিনসনের মতে, যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে উড়োজাহাজটি কোনো অন্ধকার স্থানে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং হাতে কেবল ৯০ সেকেন্ড সময় আছে, তখন বাইরে থেকে আসা আলো সাহস যোগায়। এতে দ্রুত উড়োজাহাজ থেকে বের হওয়া যায়।
উড়োজাহাজের সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়। এসময় জানালার পর্দা খোলা ছাড়াও যাত্রীদের সামনের টেবিল ভাঁজ করে রাখতে বলা হয়। যেন প্রয়োজন হলে তারা দ্রুত বেরিয়ে পড়তে পারেন।
বিপদের সময় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। ২০০৯ সালে নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীর ওপর আছড়ে পড়ে ফ্লাইট ১৫৪৯। যাত্রী ও ক্রুদের পারস্পরিক সহযোগিতায় ১৫০ জন যাত্রীর সবাই অক্ষতভাবে উদ্ধার পেয়ে যান। নিউ ইয়র্কের মেয়র এই ঘটনাকে ‘মিরাকেল অন হাডসন’ বলে আখ্যায়িত করেন।
উড়োজাহাজে ভ্রমণ করলে উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় জানালার পর্দা তুলে রাখুন এবং নিজেকে মানসিকভাবে সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখুন।
-B










