এক্স-রে জানাবে হৃদরোগ স্ট্রোক ঝুঁকি
ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে মানুষের মধ্যে নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে হৃদরোগ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ হৃদরোগে মারা যান। তাদের অনেকে হয়তো জানেনই না যে হৃদরোগ পুষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু যখন জানতে পারেন, ততক্ষণে সব শেষ। এতদিন কারও হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কিনা তা জানতে ইকো-কার্ডিওগ্রামের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো। যার মাধ্যমে চিকিৎসকরা হৃৎপি-ের ভাল্বের রোগ, জন্মগত রোগ, হৃৎপি-ের মাংসপেশির রোগ, হৃৎপি-ের বাইরের পর্দা, পেরিকার্ডিয়ামের রোগ, হৃৎপি-ের বাইরের পানি ও ধমনির রোগ নির্ণয় করতেন। কিন্তু এবার রেডিয়োলজির জগতে এক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে একবার এক্স-রে করেই জানা যাবে কারও হৃদরোগ কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কিনা।
এক্স-রের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এক ধরনের ‘লার্নিং মডেল’ তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে সিএক্সআর-সিভিডি। প্রযুক্তিটি পরীক্ষামূলকভাবে ১১ হাজারের বেশি রোগীর ওপর পরীক্ষাও করা হয়েছে। যেখানে এই রোগীদের প্রত্যেকের বুকের এক্স-রে করা হয়েছিল, যা তাদের স্ট্যাটিন থেরাপির জন্য উপযোগ্য করে তুলেছিল। এই স্ট্যাটিন থেরাপি হৃদরোগে আক্রান্তদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রতিরোধে সাহায্য করে। ইতোমধ্যে সিএক্সআর-সিভিডি প্রযুক্তিটি রেডিওলজিক্যাল সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার বার্ষিক বৈঠকেও উপস্থাপন করা হয়েছে।
গবেষকরা বলেছেন, তাদের লার্নিং মডেল বা ডিপ লার্নিং বিষয়টি হচ্ছে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি ধরন, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এক্স-রে ইমেজ অনুসন্ধান করে কোনো ব্যক্তির হৃদরোগের ধরন সম্পর্কে আঁচ করা যেতে পারে।
গবেষণানিবন্ধের প্রধান লেখক যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জোনারেল হসপিটালের কার্ডিওভাসকুলার ইমাগিং রিসার্চ সেন্টারের রেডিওলজিস্ট জ্যাকব ওয়েইস বলেছেন, এক্স-রে ছবি ব্যবহার করে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয়ের সম্ভাব্য সমাধানকেই আমরা ডিপ লার্নিং মডেল বলছি। হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ, যারা জানেন বা জানেন না তাদের জন্য এই প্রযুক্তি ঝুঁকি শনাক্তে কাজে লাগবে। হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন, অথচ এখনো কোনো চিকিৎসা নেওয়া হয়ে ওঠেনি, তারা এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারেন।
-B










