হজযাত্রী সংকটে এয়ারলাইন্স:সঙ্কট কাটছেই না

হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে সঙ্কট কাটছেই না। সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের মতো বাংলাদেশ বিমানও যাত্রী সঙ্কটে পড়েছে।
সূত্রমতে, আগামী ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ২১টি ফ্লাইটের এবং বাংলাদেশ বিমানের ২২টি ফ্লাইটের ৩৫-৪০ ভাগ আসনই ফাঁকা রয়েছে। এদিকে সৌদি মালিকানাধীন এয়ারলাইন ফ্লাইনাস হজযাত্রী পরিবহন শুরু করেছে। তবে এ এয়ারলাইন্সটির আগের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ধরে এ ব্যাপারে বেসরকারি এজেন্সি মালিকদের সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয় ও আটাব।
বিমানের ২২টি ফ্লাইটের কত আসন এবং কেন আজ (১৪ জুন) পর্যন্ত অবিক্রিত রয়েছে জানতে বিমান কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে একজন আরেকজনকে দেখিয়ে কেউই এ বিষয়ে জানেন না বলে জানান।
বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপক বাণিজ্যিক, হজ্জ সেল, সাইফুদ্দিন আহমেদ ২২টি ফ্লাইটের তথ্য দিলেও আর কোন তথ্য তিনি জানেন না বলে জানান।
মহাব্যবস্থাপক, বিপণন, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, মহাব্যবস্থাপক, ডিস্ট্রিক্ট সেল তারাও কোন তথ্য দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে কথা বলতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন'র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেননি।
অপরদিকে, সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের সেলস ম্যানেজার ওমর খৈয়াম এই প্রতিবেদকে বলেন, সঠিক তথ্য আমার জানা নাই। কারণ
অনেকেই পে অর্ডার করছেন আবার ফেরতও নিচ্ছেন। কি কারণে এ অবস্থা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি ব্যাস্ততার কথা বলে ফোনটি রেখে দেন।
এদিকে, হজ যাত্রী পরিবহনে তৃতীয় এয়ারলাইনার ফ্লাইনাস'র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সামসুল আলমকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এদিকে, গত ৭ জুন সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স জানিয়েছিল ১২ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত তাদের ১৪টি ফ্লাইটে মোট ৫ হাজার ৫৬২ আসনের বিপরীতে টিকিট অবিক্রীত রয়েছে তিন হাজার ৮৩৮টি। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ধর্মমন্ত্রণালয় হজ এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করেছিল। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুন) মন্ত্রণালয় ফের বাংলাদেশ বিমানের হজযাত্রী সঙ্কটের কথা জানিয়েছে। হজ-১ শাখার উপসিচব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানের হজের ডেডিকেটেড ফ্লাইটের ১৩ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ছয়টি ফ্লাইটে তাদের মোট দুই হাজার ৪৯০টি আসন রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র এক হাজার ১৫৫টি সিট বিক্রি হয়েছে। বাকি এক হাজার ৩৩৫টি সিট বিক্রি হয়নি। অর্থাৎ ৫৩ ভাগেরও বেশি সিট অবিক্রীত রয়ে গেছে।
পরদিন অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ এজেন্সিগুলোকে দ্রুত বিমান টিকিট বুকিং দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, হজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য এজেন্সিগুলো চুক্তিবদ্ধ। কিন্তু তাদের দায়িত্বে অবহেলা চুক্তিভঙ্গ এবং অনিয়ম ও অসদাচরণের শামিল। এতে সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সরকার হজ এজেন্সিগুলোর যেকোনো ধরনের শৈথল্যে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে বলে এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করা হয়।
-B










